ঝিনাইদহে কুপিয়ে আহত করা সেই প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হলেন প্রেমিকা পূজা বিশ্বাস

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের উপশহর পাড়ায় কথিত প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া স্কুলছাত্রী পূজা বিশ্বাসকে কুপিয়ে আহত করা সেই প্রেমিকের সাথে পূজা বিশ্বাস এবার অজানার উদ্যেশ্যে বৃহস্পতিবার উধাও হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
সেদিন সোমবার (২৫ অক্টোবর ২০১৬) সন্ধ্যায় লিটু নামের প্রেমিক স্কুলছাত্রী পূজা বিশ্বাসকে (১৬) কুপিয়ে আহত করেছিল মর্মে ব্যাপকভাবে সংবাদটি গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় লিটুর পায়ে গুলি লাগা অবস্থায় পুলিশ লিটুকে আটক করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে লিটু গংরা ঝিনাইদহ জর্জ কোর্ট মারফত জামিনে আছে বলে জানা যায়। প্রায় ৬ মাস পরে পূজা বিশ্বাসের পিতা বিপুল মজুমদার মেয়েকে মহা ধুমধাম করে পাশের জেলা মাগুরায় বিবাহ দেয়।
জানা গেছে, বিয়ের প্রায় দেড় বছর পরে ঘটনার দিন (২১ জুন ১৮) বৃহস্পতিবারে আনুমানিক বেলা আড়াইটার দিকে উপশহর পাড়ার পূজার পিতার বাসা হতে নিজ স্বামীর বাড়ি মাগুরার উদ্যেশ্যে স্বামীর সহিত মটরসাইকেল যোগে পাড়ি দেয় পূজা। পথিমধ্যে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পূজা তার স্বামীকে ঝিনাইদহ টার্মিনালে মোটরবাইক থামিয়ে ফলের জুস ও কিছু ফল কেনার জন্য পাঠায়। বেচারা স্বামী ফল ও জুস নিয়ে ফিরে আসলে ততক্ষণে সেই প্রেমিক লিটুর সাথে অজানার উদ্যেশ্যে উধাও হয় পূজা বিশ্বাস।
সেসময় পূজা বিশ্বাস যথেষ্ট পরিমান সোনার অলঙ্কার ও টাকা পয়সা সাথে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক প্রেমিক লিটুকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন মর্মে ঝিনাইদহ শহর জুড়ে ঝড় উঠেছে। এদিকে পূজা বিশ্বাসের পিতা বিপুল মজুমদার এ সংবাদের আংশিক অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবারে (২১ জুন ১৮) আনুমানিক বেলা আড়াইটার দিকে পূজা আমার নিজ বাসা হতে পূজার স্বামীর বাড়ি মাগুরার উদ্যেশ্যে তার স্বামীর সহিত মটরসাইকেল যোগে পাড়ি দেয় পূজা। স্বামীর বাড়িতে পৌছানোর পর একই দিনে রাত আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমার জামাই আমাকে ফোন করে বলে পূজাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার সন্দেহ হলে আমি ও আমার জামাই মিলে পূজাকে খুঁজে না পেয়ে মাগুরা থানায় একটি জিডি করি। শুক্রবার (২২ জুন) রাত পর্যন্ত পূজা ও লিটুর কোন প্রকার খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি জানান, ঝিনাইদহ সদর থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি, করলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পর থেকেই লিটুর ভগ্নিপতি উপশহর পাড়ার এলাকার ভাড়াটে ফল ব্যবসায়ী বাবু ও তার স্ত্রীসহ লিটুর গোটা স্বজন পরিবার পরিজন আতঙ্কে উধাও হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। প্রেমিক লিটুর সাথে পূজা যদি উধাও হতে পারে তাহলে দুই বছর পূর্বে কিভাবে এই প্রেমিক লিটু প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রী পূজা বিশ্বাসকে কুপিয়েছিল? গণমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে শহরবাসীরা এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। উপশহর পাড়ায় কথিত জখম করা সেই প্রেমিকের সাথে পূজা বিশ্বাস এবার অজানার উদ্যেশ্যে উধাও হয়েছে ঘটনায় ঝিনাইদহ শহর জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের উপশহর পাড়ায় নিজ বাসার ছাদে কথিত প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সোমবার (২৫ অক্টোবর ২০১৬) সন্ধ্যায় লিটু নামের এক যুবক স্কুলছাত্রী পূজা বিশ্বাসকে কুপিয়ে আহত করেছিল মর্মে ব্যাপকভাবে সংবাদটি গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় পূজাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, পূজার বাঁ চোয়ালে ও ডান হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ক্ষত স্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে আশঙ্কামুক্ত ছিল। পূজার বাবা ঝিনাইদহ শহরের উপশহর পাড়ার বাসিন্দা বিপুল মজুমদার জানান, তাঁর মেয়ে স্থানীয় জমিলা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, উপশহর পাড়ার একই এলাকার ভাড়াটে বাবু নামের ফল ব্যবসায়ী এক ব্যক্তির শ্যালক লিটু (পূর্বের বয়স-২২) প্রায়ই তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় পূজাকে কুপিয়েছেন লিটু। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পূজা বলেছিল, সোমবার (২৫ অক্টোবর ২০১৬) সন্ধ্যা ছয়টায় নিজেদের বাড়ির ছাদে ছিল পূজা। সে সময় প্রাচীর টপকে বখাটে লিটু ছাদে চলে আসেন। লিটু তার হাত ধরে নিচে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পূজা বাধা দিলে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র গলায় ধরে হত্যার হুমকি দেন লিটু। এক পর্যায়ে লিটুর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার চোয়াল ও হাত জখম হয়। এ বিষয়ে সে সময়ের ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানিয়েছিলেন, জড়িত যুবক লিটুর পায়ে গুলি লাগা অবস্থায় আটক করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল।