ঝালকাঠিতে মন্দিরের গাছ বিক্রিতে বাঁধার অভিযোগ

রাজাপুর প্রতিনিধি : ঝালকাঠি সদর উপজেলার কেওড়া ইউনিয়নের রনমতি গ্রামের একটি মন্দিরের গাছ বিক্রিতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ইউপি সসদ্যের বিরুদ্ধে। এমনকি দলবল নিয়ে ওই ইউপি সদস্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে প্রাণ নাশের হুমকী দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সদর উপজেলার কেওড়া ইউনিয়নের রনমতি গ্রামের গলাইয়া খোলা সার্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দির ১৪ শতাংশ জমির উপরে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় শত বছর ধরে ওই মন্দিরে কালি পূজা, শীতলা পূজা সহ বিভিন্ন ধরনে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এছাড়াও প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে মেলা ও পূজা অর্চনা হয় এখানে। গলাইয়া খোলা সার্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কমল কুমার দাসগুপ্তের ঠাকুর দাদু মৃত. ললিত কুমার দাসগুপ্ত প্রায় ৯০ বছর পূর্বে এই মন্দিরের নামে রনমতি মৌজার ৩৬৫ ও ৫২৪ খতিয়ানের ২৯২, ২৯৩, ২৯৪ দাগ থেকে ১৪ শতাংশ জমি দান করেন। এই মন্দিরের জমির উপরে তিনটি বড় রেন্ট্রি গাছ রয়েছে যার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। মন্দির পরিচালনা কমিটি এই তিনটি রেন্ট্রি গাছ বিক্রি করে মন্দিরের ভবন নির্মান করতে চাচ্ছেন। কিন্তুু স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামালা মৃধা, আনসার সদস্য রাজ্জাক খান, আক্কাস খান ও লতিফ খান মিলে দলবল নিয়ে এই গাছ বিক্রিতে বাঁধা দিচ্ছেন। তাদের দাবি এই তিনটি গাছের মধ্যে দুইটি গাছ তারা রোপন করেছেন। তবে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মন্দিরের জায়গায় এই তিনটি রেন্ট্রি গাছ মন্দিরের সেবাইতরাই লাগিয়েছেন। গলাইয়া খোলা সার্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কমল কুমার দাসগুপ্ত বলেন, ‘ মন্দিরের এই তিনটি রেন্ট্রি গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে আমরা মন্দিরের জন্য ভবন নির্মান করতে চাই। কিন্তুু ইউপি সদস্য কামালা মৃধা, আনসার সদস্য রাজ্জাক খান, আক্কাস খান ও লতিফ খানরা মিলে আমাদের গাছ বিক্রি করতে দিচ্ছেন না। তাদের অব্যাহত হুমকীতে আমি বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় । এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামালা মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি গাছের মালিকানা দাবি করে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করায় কোন পক্ষকেই গাছগুলো বিক্রি করার অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা। মিমাংশা হলে যে পক্ষ পাবে সেই পক্ষই গাছগুলো বিক্রি করবে।