ঝালকাঠিতে আমনের বাম্পার ফলন

রহিম রেজা, ঝালকাঠি সংবাদদাতা : ঝালকাঠিতে এবছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল কাটা ও মারাই করতে কৃষকরা এখন ব্যস্তসময় পার করছেন। তবে এলাকার বেকার যুবকরা অটো, অটো রিক্সা ও মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেয়া দিয়েছে চরম ভাবে।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলছে কৃষক। তাই তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। আমন ধান চাষ করে এবার লাভবান হবে কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ঝালকাঠি জেলায় এবছর ৪৯ হাজার ৯৪১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ধান কর্তন পর্যন্ত কোন রকম বৈরি আবহাওয়া না থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। বিগত বছরে অসময়ের বৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় থাকায় আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয় এতে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পঁচে গিয়ে ফলনের বিপর্জয় হয়। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। এবছর চিত্র ভিন্ন।

সূত্র আরও জানায়, এবছর আমন ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ হাজার ১৬৯ মে. টন। এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় এক লক্ষ মে. টন চাল। ফলনও হয়েছে বিগত ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ। এই অভুতপূর্ব ফলন দেখে কৃষকরা আশায় বুক বেধেছে। তবে কৃষকদের দাবি ভাল ফলনের পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত ফসলের যেন ন্যায্য মূলে নিশ্চিত করে সরকার। তাহলে কৃষককূল আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করবে, অর্থনৈতিক ভাবে মুক্ত হবে তারা। আমন ধান প্রতি মণ ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নলছিটি উপজেলার প্রতাপ গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবছর আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে ধানের ন্যায্য মূল্য যেন আমরা পাই সে ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। একই এলাকার কৃষক আব্দুল বারেক খান বলেন, ‘বর্তমানে শ্রমিকের পারিশ্রমিক অনেক বেশি। ফসল রোপণ থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়। ধানের দাম বেশি হলে আমরা বাঁচতে পারি আর কম হলে আমাদের বাঁচার কোন পথ থাকে না। বর্তমানে ধান কাটা শ্রমিক সংকট চরম আকারে ধারন করেছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এখানকার কৃষকদের বিভিন্ন রকমের পরামর্শ আমরা দিয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভাল থাকায় এবছর ফলন ভাল হয়েছে।