‘জোর করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধনের চেষ্টা’

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে চার ঘণ্টা আটকে রেখে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক নিজেকে রক্ষায় শিক্ষার্থীদের জোড় করে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

সোমবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নেন প্রধান শিক্ষক। পরে অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় ছুটি দেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট কেবিনেট চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রধান শিক্ষক পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন। পরে চারটার পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুধায় কাতর হয়ে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক তাদের সকলকে মানববন্ধনে অংশ নিতে শ্রীপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে আদেশ দেন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের শ্রীপুর গমন করার জন্য কয়েকটি পরিবহন বিদ্যালয় মাঠে আনা হয়। এসময় ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ফিরছে না দেখে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে এসে এ ঘটনা দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির অপর শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তারের মা ইয়াসসিন আক্তার জানান, বিকাল চারটায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যালয় ছুটি হচ্ছে না দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠি, পরে মেয়ের খোঁজ নিতে সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ে এসে দেখি তাদের জোড় করে বিদ্যালয়ে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এসময় আমরা প্রতিবাদ করলে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের অভিভাবক হিরণ মিয়া জানান, ছেলেটি সকালে বাড়িতে থেকে এসেছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রধান শিক্ষক আটকিয়ে রেখে অমানবিক কাজ করেছেন। হয়ত তিনি শাক দিয়ে মাছ গোপন করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক মোফাজ্জল হোসেন সরকার জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় আমরা সকাল থেকেই নজর রাখছিলাম। সারাদিন কয়েকশ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে আটকিয়ে রেখে সন্ধ্যার সময় মানববন্ধন করার জন্য শ্রীপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অভিভাবকরা এসে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় হতে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল মনসুর মানিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয় চারটায় ছুটি হয়েছিল তবে খেলাধুলা করায় হয়ত তারা রাতে বাড়িতে গেছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোড় করে শ্রীপুরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এক অভিভাবককের কাছ হতে মুঠোফোনে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদকে নিষেধ করা হয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিদ্যালয় চলার সময়ে বিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন ছাত্র মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ ঘটনার জের ধরে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল মনসুর মানিক দশম শ্রেণির এ শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে নিয়ে চার ঘণ্টা আটকিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় ছাত্রী ঘটনার বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১১ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।