জুমার নামাজ ও সামাজিক সৌন্দর্য

শুক্রবার মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদার দিন। এদিনের প্রধান আমল জুমার নামাজ। এটি একদিকে যেমন আল্লাহর এক বিশেষ ইবাদত, তেমনি তা মুসলমানদের মহামিলনের উপলক্ষ্যও। জুমার দিনে মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য মসজিদে সমবেত হন। এতে তাদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের সুযোগ হয়। নানা বর্ণের ও গোত্রের মানুষ একত্রিত হওয়ার ফলে ইসলামের সমাজ চেতনার বাস্তবায়ন ঘটে।

মনিব, ভৃত্য, উঁচু-নিচুর মধ্যে প্রভেদ থাকে না তখন। একত্রে মিলিত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধন যেমন সুদৃঢ় হয় তেমনি জাগ্রত হয় দীনি চেতনা। কেননা হাদিসের ভাষায় একজন মুমিন অপর মুসলমানের জন্য আয়নাস্বরূপ। আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে অনগ্রসর ব্যক্তি যখন মসজিদে গিয়ে কোনো নেক বান্দার সাক্ষাৎ পান, তখন তার মধ্যে আত্মচেতনা জেগে উঠে। সৎ মানুষটির সঙ্গে সে নিজেকে তুলনা করে দেখেন। এতে তার মনে তখন নতুন ভাবনার উদয় হয়। দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা তাকে যেন নতুন করে ভাবিয়ে তোলে। বিগত জীবনের কাজকর্ম পর্যালোচনা করে যখন সুখকর কোনো ফল পাওয়া যায় না, তখন অনুতাপ ও অনুশোচনায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এই তো তওবা তথা আল্লাহর পথে ফিরে আসা। জীবনের মোড় পরিবর্তন হয়ে যায় এর মাধ্যমে। জুমার নামাজের মাধ্যমে এভাবে আল্লাহর পথভোলা বান্দারা সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে। পরিণামে অধিকারী হতে পারে চিরশান্তির আবাস জান্নাতের। যে জান্নাত থেকে মানুষকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেখানে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়।

আদম (আ.) কে দুনিয়াতে পাঠানের সময় আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছিলেন, আমার কাছ থেকে হেদায়েতের বাণী পাঠানো হবে। যারা তা অনুসরণ করবেন, তাদের কোনো ভয় নেই। কোনো দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। জুমার নামাজ এমনই মহা সাফল্যের দ্বার উন্মোচন করে দেয় বনি আদমের সামনে। যারা চূড়ান্ত সাফল্য তথা জান্নাতের অতুলনীয় নেয়ামতরাজি হাসিল করতে সক্ষম হয় প্রকৃত ভাগ্যবান তারাই। জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে এ সৌভাগ্যের অধিকারী হওয়া যায়। এজন্যই মুসলমানদের প্রতি নির্দেশ হলো জুমার নামাজের আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের দিকে ধাবিত হতে হবে। সব কাজ ফেলে রেখে ছুটতে হবে মসজিদে। মুসলমানদের জীবনে কল্যাণ এতেই নিহিত রয়েছে।

Inline
Inline