জীব-বৈচিত্র্য খাতে ব্যাংক অর্থায়নের আগ্রহ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাঁচ শতাংশ গ্রিন ব্যাংকিংয়ে অর্থায়নের কথা থাকলেও মাত্র দশমিক পাঁচ শতাংশ অর্থায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে জীব-বৈচিত্র্য খাতে ব্যাংকের অর্থায়ন আরও কম। মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ ব্যাংক জীব-বৈচিত্র্য খাতে অর্থায়ন করছে। এ অর্থায়নের বেশির ভাগই যাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএমে ‘হাউ টু ইনকর্পোরেট বায়ো-ডাইভার্সিটি ইস্যুস ইন গ্রিন ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

কর্মশালায় বিআইবিএম এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং এবং জীব বৈচিত্র্য খাতের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রিন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে একটি আলাদা গাইড লাইন তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইনের চেয়ে ব্যাংকারদের সচেনতা জরুরি।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, জীব বৈচিত্র্য খাতে অর্থায়নে পরিবেশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে।

বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং খাতে এক সময় কোনো সচেতনা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। একইভাবে ব্যাংকারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে জীব-বৈচিত্র্য খাতেও এক সময় বড় পরিবর্তন আসবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং এবং জীব বৈচিত্র্যতা বিষয়ে সব পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। আগামী দিনে এ খাতে অর্থায়নে ব্যাংকারদেরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিস এ খান বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), এজেন্ট ব্যাংকিংসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জীব-বৈচিত্র্য খাতে অর্থায়ন করতে হবে। এতে ঝুঁকি কমবে।

তিনি বলেন, ব্লু- ইকোনমি ব্যাংকিং খাতের অর্থায়নে নতুন খাত সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ব্যাংকাররা দৃষ্টি দিতে পারে।

বাংলাদেশ পৌষের প্রেসিডেন্ট এম. সানোয়ার হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো সম্পৃক্ত হলে জীব-বৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমাইরা আজম বলেন, জীব-বৈচিত্র্য খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বিআইবিএম এবং বাংলাদেশ পৌষ যৌথভাবে এ গবেষণা কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী।

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সাত সদস্যের গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা রহমান, অন্তরা জেরীন, রেক্সোনা ইয়াসমিন এবং তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া আরও ছিলেন বাংলাদেশ পৌষের প্রেসিডেন্ট এম. সানোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আসিফ ইকবাল।