জিম্বাবুয়েকে ৫৮ রানে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

mustafijস্পোর্টস ডেস্কঃ প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে না পারলে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে জিম্বাবুয়ের। যে কারণে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে ২৪১ রানে বেধে ফেলা। এরপর ব্যাট করতে নেমেও শুরুতে বেশ দৃঢ়তার পরিচায় দিলো জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার। রেগিস চাকাভা এবং চামু চিভাবা মিলে ২২ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। মুস্তাফিজ কিংবা মাশরাফিকে উইকেট না দিয়ে ভালোই ব্যাট করছিলেন এরা দু’জন।

তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই আরাফাত সানিকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মাশরাফি এবং বোলিং করতে এসে ওভারের তৃতীয় বলেই রেগিস চাকাভার উইকেট তুলে নেন আরাফাত। দলীয় ২২ রানে পড়লো প্রথম উইকেট। চিভাবার সঙ্গে জুটি বাধতে মাঠে নামেন আরভিন।

কিন্তু মাশরাফি যখন স্বমুর্তিতে আবির্ভূত হন, তখন আর কারও করার কিছু থাকে না। থাকলো না চিভাবারও। ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই মাশরাফির ইনসুইঙ্গার বলটিকে কাট করতে গিয়ে নিজেই স্ট্যাম্পে ঠেলে দেন চিভাবা। ৯ বলে ১৪ রান করা জিম্বাবুয়ের এই ওপেনারও ফিরে গেলেন। ২৩ রানে পড়ল দ্বিতীয় উইকেট। জিম্বাবুয়েও দারুন বিপদে।

প্রথম ওয়ানডেতে দারুন বোলিং করার পরও উইকেটের দেখা পাননি তরুন সেনশেসন মুস্তাফিজুর রহমান। তাকে উইকেট না দেয়ার পন করেই যেন বাংলাদেশে এসেছিল জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও মুস্তাফিজের স্লোয়ার-কাটাওে দিশেহারা জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু উইকেটটাই পাচ্ছিলেন না মুস্তাফিজ।

অবশেষে উইকেট খরা কাটলো সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসের। ৯ম ওভারের (মুস্তাফিজের চতুর্থ ওভার) শেষ বলে এসে শন উইলিয়ামস ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন। মুস্তাফিজের অফ কাটারটা বুঝতেই পারেননি উইলিয়ামস। তার ব্যাট ছুঁয়ে যখন বলটা শর্ট মিডউইকেটে ভেসে আসলো তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটা লূফে নিলেন নাসির হোসেন। ১৭ বলে ১৪ রান করে ফিরে গেলেন উইলিয়ামস। ৪৫ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেট।

শন উইলিয়ামস আউট হয়ে যাওয়ার পর ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে জুটি বাধেন এলটন চিগুম্বুরা। দু’জন মিলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের সামনে হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছিল। তবে, দারুন এক ফিল্ডিং নৈপুন্যে এ জুটি ভাঙ্গেন লিটন দাস। দলীয় রান যখন ৭৮, তখন একটি শট রান নিতে গিয়ে লিটন কুমার দাসের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে যান ক্রেইগ আরভিন। ৪৪ বলে ২৬ রান করেন তিনি।

এরপর চিগুম্বুরার সাথে জুটি বাধেন সিকান্দার রাজা। এই জুটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সামনে। ৭৩ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। শেষ পর্যন্ত দলীয় রান যখন ১৫১, তখন আল আমিন ইন অ্যাকশন। তার বাউন্সারে কুপোকাত হয়ে যান রাজা। ক্যাচ তুলে দেন মিড অনে। একেবারে জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্যাচটা লুফে নেন ইমরুল কায়েস।

রাজা-চিগুম্বুরা জুটি ভাঙার পর স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। কারণ, বাংলাদেশের ২৪১ রানকে বেশ সহজ টার্গেটে পরিণত করছিল তারা দু’জন। শেষ পর্যন্ত আল আমিনই ভাঙলেন এই জুটি।

এরপর আবারও আল আমিন ইন অ্যাকশন। পরের ওভারে বল করতে এসেই তুলে নিলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আরেক জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান এলটন চিগুম্বুরার উইকেট। ৩৬তম ওভারের ৫ম বলে আল আমিনের স্লোয়ার লেগ কাটার খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন থার্ড ম্যান অঞ্চলে। অনেক দুর দৌড়ে এসে ইমরুল কায়েস লুফে নেন সেই দুর্দান্ত ক্যাচটি। ১৫৬ রানে পড়ল ৬ষ্ঠ উইকেট। ৭৭ বল খেলে ৪৭ রান করে ফিরলেন চিগুম্বুরা।

এ রিপোর্ট লেখার সময় জিম্বাবুয়ের রান ৩৭ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান। উইকেটে ৩ রান নিয়ে রয়েছেন ম্যালকম ওয়ালার এবং তার সঙ্গী লুক জংউই এখনও রানের খাতা খোলেননি।

Leave a Reply

Inline
Inline