জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জার্মানির ১৯তম জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে৷ এবার ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ১৫ লাখ৷ স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত৷
সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, টানা চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হতে যাচ্ছেন আঙ্গেলা মের্কেল৷তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম এবং অধিবাসীদের ভোট জয়-পরাজয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
ভোটাররা প্রত্যেকে দুটি করে ভোট দিতে পারবেন৷ একটি ভোট স্থানীয় প্রার্থীকে অপরটি দলকে৷ কোনো দল মোট ভোটের ৫ শতাংশ ভোট না পেলে সেই দলের সংসদে যাওয়ার সুযোগ নেই৷
জার্মান পার্লামেন্টে ৫৯৮ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে, আর বাকি ২৯৯টি আসনে দলীয় ভোটপ্রাপ্তির শতাংশের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন দলের তৈরি করা প্রার্থী তালিকা থেকে সংসদ সদস্য হবেন৷এ মুহূর্তে ইউরোপের সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলা হচ্ছে এই নির্বাচনকে৷
সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবারে নির্বাচন হওয়াই এই দেশের রেওয়াজ৷ জার্মানির নির্বাচন আইন অনুযায়ী, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হলো জার্মানির নির্বাচন প্রশাসনের৷ নির্বাচনি প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভোটারদের বাড়িতে ছয় সপ্তাহ আগে নির্বাচনি এলাকার নাম, ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা ও ভোট দেয়ার সময়সহ কার্ড পাঠিয়ে দিয়েছে৷
ভোটাররা তাদের কাছে পাঠানো নির্বাচনী কার্ড ও পরিচয়পত্র নির্বাচনি স্বেচ্ছাসেবীদের দেখিয়ে ভোট দিতে পারবেন৷জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ও ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস( সিডিইউ) দলের নেতা আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবারও চতুর্থবারের মতো তার দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী৷ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রীয় ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি( এসপিডি)’র নেতা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সভাপতি মার্টিন শুলজ৷ তবে এর বাইরে রয়েছে পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি, ফ্রি ডেমোক্র্যাট পার্টি(এফডিপি), বাম দল এবং কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি৷
এবারের নির্বাচনে মোট ৬৫টি দল অংশ নিচ্ছে৷ সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় শরিক দল সিডিইউ পেতে যাচ্ছে ৩৬ শতাংশ ভোট, এসপিডি ২২ শতাংশ আর চার বছর আগে গঠিত কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি পেতে যাচ্ছে ১০ শতাংশ ভোট৷
ইসলাম, শরণার্থী ও অভিবাসী বিরোধী জার্মানির জন্য বিকল্প বা অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড নামের দলটি এবারের পার্লামেন্টে ভোট প্রাপ্তির শতাংশ হিসাবে ৭০ আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এবারের জাতীয় নির্বাচনটি জার্মানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কেননা এখন পর্যন্ত প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচনী জরিপ থেকে যা দেখা গেছে তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই হয়তো প্রথম নির্বাচিত দলকে ছয় দল নিয়ে পার্লামেন্ট গঠন করতে হতে পারে৷ এমনটা যদি হয়, তবে বর্তমানে যে ধরনের জোট সরকার রয়েছে তার কাঠামো ব্যাপকভাবে পাল্টে ফেলতে হবে৷