জাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক

জাবি প্রতিনিধি : সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করছেন। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সকল জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায়, কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। ‘কোটা যদি দিতে হয় ১০ শতাংশের বেশি নয়।’ ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলন, চলছেই চলবে।’ ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক মেধাবিরা মুক্তি পাক’ এসব শ্লোগান দিচ্ছি।


এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আসতে থাকে জাহাঙ্গীররগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রান্তিক গেটে অবস্থান নিয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাজোয়া যান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে দলটির আরেক নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক গণমাধ্যমে জানালে এক ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার কথা জানান বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু আলোচনা না হওয়ায় আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান জবির কোটা সংস্কার আন্দোলনের নতুন আহ্বায়ক, আইন ও বিচার বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী খান মুনতাসির আরমান।

এর আগে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে কোনো বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে সবাই উপস্থিত হয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে এবং সকল অনুষদ প্রদক্ষিণ করে। তবে পূর্ব নিধারিত ফাইনাল পরীক্ষা এর আওতামুক্ত রাখা হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে গতকাল মধ্যরাতেও জাবি ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি বটতলা থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ছাত্রীদের হল, চৌরঙ্গী মোড়, পরিবহন চত্ত্বর হয়ে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এই আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমর্থন জানায়।