জাবালে নূরের মালিকসহ ছয়জনের বিচার শুরু

আদালত প্রতিবেদক : রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর মামলায় জাবালে নূর বাসের চালক ও মালিকসহ ছয়জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়ে ১ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে মামলাটিতে কারাগারে থাকা চার আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন।

চার্জগঠনকৃত আসামিরা হলেন, জাবালে নূর বাসের মালিক মো. শাহদাত হোসেন আকন্দ (৬০), চালক মাসুম বিল্লাহ (৩০), চালকের সহকারী মো. এনায়েত হোসেন (৩৮) ও চালক মো. জোবায়ের সুমন (৩৬) এবং অপর বাসমালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও বাস চালকের সহকারী মো. আসাদ কাজী (৪৫)। আসামিদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানান, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৭৯/৩০৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন। যার মধ্যে ২৭৯ ধারায় ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড এবং ৩০৪ ধারায় যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড বা যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে জাবালে নূরের দুটি বাস পাল্লা দেওয়ার সময় একটি এমইএস বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো একদল শিক্ষার্থীর উপর উঠে যায়। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয় এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহেল রানা, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইমরান চৌধুরী, মেহেদী হাসান জিসান, রাহাত, সজিব, জয়ন্তি, প্রথম বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়া, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তৃপ্তাসহ আরও কয়েকজন।

দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল থাকে ঢাকার সড়ক। শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে সরকার।

ঘটনার দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন নিহত মিমের বাবা দূরপাল্লার বাস চালক জাহাঙ্গীর আলম। পরে ডিবি পুলিশ উত্তর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর কাজী শরীফুল ইসলাম ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Inline
Inline