‘জাতীয় ঐক্যের চমক দেখতে অপেক্ষা করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের নামে সরকারবিরোধী যে জোট গড়ার প্রক্রিয়া চলছে এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনই বলার সময় আসেনি বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ। নতুন এই জোটের চমক দেখার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের একটি টক শোতে তিনি এই মন্তব্য করেন। নিউজ অ্যান্ড ভিউজ নামের টক শোতে সহ-আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

নতুন জোট প্রসঙ্গে মাহফুজউল্লাহ বলেন, ‘এখনও ঐক্যের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়নি। কোনভাবে এই ঐক্য প্রক্রিয়া কাজ করবে, বিএনপি কি জামায়াতকে বাদ দেবে নাকি ঐক্যের দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে দাঁড়াবে নাকি অভিন্ন কর্মসূচি দেবে সেটার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এই জোটের ভবিষ্যৎ নেই সেটা এখনও বলার সময় আসেনি, এখনও অনেক সময় বাকি।’

‘কারণ রাজনীতিতে সবসময় দিনক্ষণ হিসাব করে সবকিছু ঘটে না। অনেক সময় দেখা যায় দুই চার ঘণ্টায়ও অনেক নাটকীয় ঘটনা ঘটে যায়। সুতরাং এটা নিয়ে এখনই কথা বলা ঠিক নয়।’

সিনিয়র এই সাংবাদিক বলেন, ‘এইজোটের মধ্যে সাংগঠনিক শক্তি আছে বিএনপির। আর অন্যান্য যারা আছেন তাদের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা আছে। জনমনে তাদের প্রতি একধরনের শ্রদ্ধাবোধ আছে। কাজেই দুটি যখন একসঙ্গে এসে দাঁড়ায় অর্থাৎ ব্যক্তি এবং সংগঠন যখন একসাথে এসে দাঁড়ায় তখন সেটা যথেষ্ট শক্তি অর্জন করতে পারে।’

জোটের ঐক্য নিয়ে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেন এই সাংবাদিক। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিকে এই জোটকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, কিন্তু দেখলাম তিনি নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনায় এটা নিয়ে যেভাবে কথা বললেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি যতেষ্ট ক্ষুব্ধ। সেটা তিনি করতেই পারেন। কারণ তার রাজনৈতিক সমালোচনা করার অধিকার আছে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে সমালোচনাগুলো আরেকটু নরম হতে পারত। কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই বলেছেন। কিন্তু মানুষ এই ধরনের মন্তব্যকে ভালোভাবে নেয় না।’

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও সেটি একক না যৌথ নেতৃত্বে চলবে তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। বিএনপির ভেতরেও রয়েছে এ নিয়ে মতবিরোধ। কোনো কোনো নেতা চাচ্ছেন না যে, ড. কামাল হোসেন বা ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্ব দিন। তারা চান নেতৃত্ব থাকুক বিএনপির হাতে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী এই সাংবাদিক বলেন, ‘এটার জন্য আরও কয়টা দিন অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসে বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন তখন সরকার পরিবর্তনের একটা বিষয় থাকে। এজন্য জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের দোলাচল শুরু হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও তাই হয়।’

মাহফুজউল্লাহ বলেন, ‘দুই দলই ক্ষমতা চায়। এক দল ক্ষমতায় আসতে চায় আরেক দল ক্ষমতায় থাকতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার এই লড়াইয়ে উভয় পক্ষ চাইবে তার নিজের শক্তি প্রকাশ করতে। শক্তিকে আরও বাড়াতে বা সঞ্চয় করতে। সেই হিসেবে জোটের বিন্যাস বা পুনঃবিন্যাস হচ্ছে। জোটের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন কোনো ঘটনা না। আমাদের মতো দেশগুলোতে এ প্রথা বহুদিন থেকেই চালু আছে।’