জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত

ঢাকা, ৮ মার্চ, ২০১৮ : জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের যৌথ উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ মার্চ বুধবার কনস্যুলেট জেনারেলের মিলয়াতনে সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল-এর কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. সাহেদুল ইসলাম।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান একটি বিরল সম্মান উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ভাষণ আর বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সারা পৃথিবীর মানুষের অনুপ্রেরণাদানকারী একটি দলিলে পরিণত হয়েছে । যা মানুষকে জাগ্রত রাখবে তাদের দাবি আদায়ের ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে।’
তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ৭ই মার্চের ভাষণের পরই চূড়ান্তভাবে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। জাতির পিতার ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা’-তে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র-যুবক, কৃষক-শ্রমিক, কুলি-মজুরসহ সর্বস্তরের মানুষ সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের সকল নিপীড়িত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য একটি স্বীকৃতি। শুধু বাঙালি জাতি নয়, বিশ্বের সকল নিপীড়িত স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আবেদন কখনই শেষ হবে না।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের কমান্ডার আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহিম রেজা নুর।
পরে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য,গত বছরের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।