জাতির বিকাশের জন্য চাই সাংস্কৃতিক চর্চা : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০১৮ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেছেন, ব্যাপক সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে একটি জাতির প্রকৃত বিকাশ সম্ভব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনই এর সত্যতা জোরালোভাবে প্রমাণ করে। সাংস্কৃতিক চর্চা জাতিকে এগিয়ে নেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে যদি উন্নত করতে হয় তাহলে শুধু অর্থসৈতিক মুক্তি নয়, যেটা জাতির পিতা বলে গেছেন- সাংস্কৃতিক মুক্তিটাও একান্তভাবে প্রয়োজন এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রটাও প্রসারিত করাও একান্তভাবে প্রয়োজন ।এ জন্য যা যা করণীয় যথন থেকে আমি সরকার গঠন করেছি আমরা করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সুরের ধারা’র রজত জয়ন্তী পালন উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সবসময় বলতেন স্বাধীনতা মানে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতার অর্থ হলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা। কাজেই সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে একটি জাতি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না।
তিনি বলেন, এটা ঠিক সময় সময় আমাদেরকে দেশে অনেক বৈরী পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছে, বৈরী পরিবেশ আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে বাঙালিরা সবসময় নিজেদের উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।
জাতির পিতার সেই অমোঘ বাণী ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’Ñ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই বাঙালিকে কেউ কখনো দাবিয়ে রাখতে পারে নাই, পারবেও না।
সরকার প্রধান বলেন, মাঝে মাঝে কালো মেঘ ছেয়ে যায়। কিন্তু তার পাশে আবার সূর্য হাসে এবং আমাদের জীবনেও সেই ঘটনা ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে এমিরেটাস অধ্যাপক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জাসান নূর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির এবং প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী এবংসুরের ধারা’র কর্ণধার রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘শ্রুতি গীতবিতানের দ্বিতীয় সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরে এ দেশে স্বাধীনতা বিরোধেীরাই ক্ষমতায় এসেছিল। যার ফলে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। এটা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, আমার এখনো মনে পড়ে তাঁর শিক্ষার্থী থাকার সময়ে আইয়ুব খান যখন রাষ্ট্রপতি এবং আমাদের দেশে গভর্নর যখন মোনায়েম খান তখন তিনি ঘোষণা দিলেনÑ রবীন্দ্র চর্চা বন্ধ করতে হবে। এমনকি বাংলা বিভাগের প্রধান হাই সাহেবকে ডেকে মোনায়েন খান রবীন্দ্র সঙ্গীত রচনারও পরাশর্ম দিয়েছিলেন।
যার উত্তরে হাই সাহেব বলেছিলেন, তিনি লিখলে সেটতো রবীন্দ্র সঙ্গীত হবে না, হাই সঙ্গীত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কথাটি তিনি মাঝে মাঝেই বলেন, কারণ এটা বোঝানোর জন্য যে, এ ধরনের পরিবেশও আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে চাই, সংস্কৃতি চর্চার মধ্যদিয়েই একটি জাতির বিকাশ ঘটে। আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তির সংগ্রামে এমনকি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে- মার্শাল ল’-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিশাল ভূমিকা রখেছেন। তাদের অবদান সবসময় আমরা স্মরণ করি।
তিনি এ সময় সুরের ধারা প্রসঙ্গে বলেন, সুরের ধারার সব থেকে বড় যে কাজটি আমি দেখেছি সেটি হচ্ছে- সুবিধা বঞ্চিত অবহেলিত সাধারণ শিশুদের সংস্কৃতি শেখানো, গান শেখানো, তাদেরকে মূল ধারায় নিয়ে আসার এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যে প্রচেষ্টা তারা চালিয়েছে এজন্য তিনি সুরের ধারা কর্ণধার রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার পরিবার রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতির নিবিঢ় বন্ধন থাকার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সকলের প্রচেষ্টায় আমরা উন্নয়রশীল দেশে উন্নীত হতে পেরেছি। যদিও ৪৭ বছর সময় লেগেছে। কিন্তুু এই ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই চাই।
সরকার প্রধান বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা ছাড়া কখনও সাংস্কৃতির পূর্ণবিকাশ হতে পারে না। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করছে তাঁর সরকার।