জর্জিয়াকে এসইজেডে বিনিয়োগের আহ্বান এফবিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদন : ইউরো-এশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের দেশ জর্জিয়াকে বাংলাদেশে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। জর্জিয়ার এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের আলোচনা সভায় এ আহবান জানানো হয়।মঙ্গলবার মতিঝিলে এফবিসিসিআই সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জর্জিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জালাগানিয়া জর্জিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে ‘সমঝোতা স্বাক্ষর’ চুক্তি সই করে জর্জিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এর ফলে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, তথ্য বিনিমিয় এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাজ করবে দু’দেশ।এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জর্জিয়া প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি এদেশে চীন ও ভারতের মতো বিশেষায়িত অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহবান জানান জর্জিয়াকে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ‘ট্যাক্স হলিডে’ এবং বিভিন্ন দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘কোটামুক্ত সুবিধা’ গ্রহণ করে জর্জিয়ার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।জর্জিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জালাগানিয়া আশা প্রকাশ করে বলেন, জর্জিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও আজ এফবিসিসিআই এবং জর্জিয়া চেম্বারের মধ্যে যে, সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে তার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। জর্জিয়ার মন্ত্রী ঢাকা এবং তিবলিশ-এর মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ভবিষৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ ও জর্জিয়া একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ জর্জিয়ায় ১.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে কিন্তু এসময়ে জর্জিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো পণ্য আমদানি করেনি। জর্জিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম-টেক্সটাইল, পেপার ও পেপার বোর্ড এবং নিটওয়্যার। আর জর্জিয়া থেকে মূলত তুলা, কার্পেটসসহ অন্যান্য ফ্লোর কভারিং, পারমাণবিক চুল্লি, বয়লার, মেশিনারি ও মেশিনারিজ যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়।এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশে জর্জিয়ার রাষ্ট্রদূত মি. আর্চিল জুলিয়াসভিলি, জর্জিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশীয় দেশগুলোর বিভাগীয় প্রধান মিস নানা গ্যাপরিনডাসভিলি এবং বাংলাদেশে জর্জিয়ার অনারারি কনসাল রিয়াদ মাহমুদ, এফবিসিসিআই প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, এফবিসিসিআই পরিচালক শমী কায়সার এবং এফবিসিসিআই মহাসচিব মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদও আলোচনায় অংশ নেন।