জবিতে অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের

শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে পিছিয়ে পড়া ক্লাস-পরীক্ষা পোষানোর জন্য অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বহাল ও গ্রেড সমস্যা নিরসনের দাবিতে শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতির কারণে টানা নয় দিন ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি জবিতে। তাতে এক মাসের মতো পিছিয়ে পড়েছে সিডিউল। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলেন, কর্মবিরতির কারণে পিছিয়ে পড়া সূচি সমন্বয় করতে ঢাকা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। জগন্নাথেও ছুটির দিনে অথবা কর্মদিবসে সিডিউলের অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া হোক।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বহাল ও গ্রেড সমস্যা নিরসনের দাবিতে গত ১১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে কর্মবিরতি পালন করেন। একই দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। পরে ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতাদেও সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে আশ্বাে দিলে ২০ জানুয়ারি ক্লাসে ফিরে যান শিক্ষকরা।

জবির শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে অনেক ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এখন শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা না নিলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদ বলেন, “ঢাবি ও ইবিতে ছুটির দিনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের শিক্ষকরাও এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।”

সবুজ রায়হান নামের একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “শিক্ষকদেও উচিত আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া। কিন্তু এখন দেখছি সিডিউলের ক্লাসগুলোই ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে সেশন জটের আশঙ্কা আরো বাড়ছে।”

জবি শিক্ষক সমিতির সাভাপতি ড. কাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকার শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করলে আমাদের কী করার আছে। জবির শিক্ষকদের প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য ৩-৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সময় কোথায়।”

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জবি সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের আবাসিক ব্যবস্থার কারণে সহজেই তারা অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারেন। জবির ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।”