জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণের লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।শেখ হাসিনা বলেন, দেশ বেচার মুচলেকা দিয়ে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসে না। জনগণ আমাদের ২০০৯ সালে আবার ভোটের মাধ্যমে আমাদের ক্ষমতায় আনে। বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এ প্রশংসা যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। জনগণের দেয়া ওয়াদা পূরণে কাজ করছি। তাই প্রতি বাজেটের আগে আমরা দেখি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার মত কাজ হচ্ছে কি না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের মালিক জনগণ, তারাই ভোট দিবে। আমরা চাই উন্নতি করে যেতে। যেহেতু আমাদের উন্নয়ন একটি ধারায় যেতে পেরেছে তাই আমরা এত বড় বাজেট দিতে পেরেছি। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও এমনটি নেই যে, ১২২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি। সেসময় বিভিন্ন দেশ আমাকে বাংলাদেশের গ্যাস বিক্রি করতে চাপ দেয়। কিন্তু আমি কারও কথা শুনিনি। আমি তাদের বলেছি, আমাকে সার্ভে করতে হবে। দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের পর মিনিমাম ৫০ বছর আমাদের রিজার্ভ রাখতে হবে। ওয়াশিংটনে যখন গিয়েছি তখনও জিমি কার্টার আমাকে বলেছেন, কিন্তু আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি। ভারতও গ্যাস চেয়েছে। দেইনি।বিএনপি মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসেই তারা কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বন্ধ করে, বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করতে পারেনি। প্রতি জেলাকে নিরক্ষর মুক্ত করার রর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। দেশ আবার পিছিয়ে যেতে থাকে।শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমাতায় আসার পর আমাদের নেতারা ঘরে থাকতে পারতো না। আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ আমাদের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালে আমার উপর হামলার আগে আমার নিরাপত্তা তুলে নেয় বিএনপি সরকার। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে আমাদের কোনো আলোচনা করতে দেয়নি সংসদে। তিনি বলেন, আট বছর পর ২০০৯ সালে জনগণ আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেয়। পাঁচ বছর খুব কম সময় তবুও আমরা উন্নয়ন শুরু করেছি। আমাদের নীতিমালা থাকে, নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়া থাকে। প্রতি বছর বাজেট দেওয়ার সময় আমরা দেখি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হয়। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রয়োজনে আমরা কাজ করছি। এখন হতদরিদ্রের সংখ্যা ২৪ ভাগ থেকে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।জঙ্গিবাদ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বেই হচ্ছে। হলি আর্টিজানে হমলা যখন হয় অনেক বিদেশি বলেছে এটা আমরা মোকাবেলা করতে পারব না। কয়েক ঘণ্টায় আমরা এটা দমন করতে পেরেছি। বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে।তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে আমরা জনগণের ভেতরে একটা চেতনা গড়ে তুলেছি। দেশবাসী সাড়া দিয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এখন সামাজিক আন্দেলন গড়ে উঠেছে। বাবা-মা তাদের সন্তানের ব্যাপারে সতর্ক হয়েছে। জঙ্গিবাদ আন্তর্জাতিক সমস্যা হলেও এটা আমরা সম্মিলিত ভাবে মোকাবেলা করব।এসএসএফের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নিরাপত্তায় যারা থাকে তাদের জন্য বেশি চিন্তা করি। তারা যেন বিপদে না পড়ে। শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই বাহিনী যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারে।