জগন্নাথে নানা আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ

জবি প্রতিনিধি : পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫।

শনিবার সকাল নয়টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা বর্ষবরণ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

সকাল নয়টায় মঙ্গল শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে রায়সাহেব বাজার, তাঁতীবাজার মোড় হয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরে আসে। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাতীয় ফল কাঁঠাল’। শোভাযাত্রায় পাশাপাশি ছিল কাঠবিড়ালী, শেয়াল, তাল, কামরাঙ্গাসহ দেশীয় বিভিন্ন ফল-ফলাদির প্রতিকৃতি, পুতুল, পাখি, পেঁচা ও রাজা-রানীর মুখোশ, ঘোড়া, সিকা, সরা, অন্যান্য লোকজ ঐতিহ্য, অলংকৃতপাত্র ইত্যাদি। শোভাযাত্রায় গ্রাম বাংলার নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, ছাত্রনেতা, কর্মচারীসহ পুরান ঢাকার স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে সকাল ১০টায় সামাজিক বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলা বর্ষবরণ একটি সার্বজনীন উৎসব, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন নতুন মাত্রায় রূপ নেয় এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা হতে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জাতির বার্তা পৌঁছে দেয়া শুরু হয়।’


ভিসি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা দূর করে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে তুলে ধরার জন্য এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হয়। সেই হিসেবে এ বছর আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল বার্তা ‘সুষম বন্টন ও টেকসই উন্নয়ন’ নির্ধারণ করি অর্থাৎ উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করতে হবে। এর প্রতীকী হিসেবে এবারের শোভাযাত্রার মূল থিম কাঁঠাল রাখা হয়েছে। কারণ কাঁঠাল একমাত্র ফল যা অন্যকে ভাগ না দিয়ে খাওয়া যায় না। লুকিয়ে একা একা খাওয়ার ও সুযোগ নেই, কাঁঠালের সুমিষ্ট গন্ধ জানান দেবে কোথায় কাঁঠাল খাওয়া হচ্ছে। কাঁঠালের অবশিষ্টাংশ ছেড়ে দিতে হবে পশু পাখিকে খাওয়ার জন্য। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে শোভাযাত্রায় কাঁঠালের পেছনে সঙ্গী হবে কাঠবিড়ালী ও শিয়াল। সবকিছুতে যার যার ন্যায্য হিস্যা বণ্টনের মাধ্যমে নিশ্চিত হোক টেকসই উন্নয়ন।’

উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হতে পেরেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের বৈষম্য বাড়ছে, এই বৈষম্য কমাতে হবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হলে ধনী-দরিদ্র্যের মাঝে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে।’

এরপর, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কমলা রানীর সাগর দীঘীর পালাগান অবলম্বনে কিচ্ছাপালা পরিবেশিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাই আনন্দে নেচে গেয়ে উদ্বেলিত ও উৎফুল্ল হয়ে বর্ষবরণকে আনন্দবহ করে তুলে।


এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড পালন করে। বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে। এছাড়া পোগোজ স্কুলে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে মেলা আয়োজন করা হয়।