ছেলের খোঁজে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বাবা-মা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মিরপুরে নিহত ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহর বাড়ির গৃহকর্মী কামালের খোঁজে ভোলা থেকে তার বাবা-মা এসেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা এগারটার দিকে তারা মিরপুরের ওই জঙ্গি আস্তানার সংবাদ সংগ্রহে আসা কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাবা আব্দুল মালেক ও মা নূরজাহান বেগম। টেলিভিশনের খবর দেখে তারা ঢাকায় এসেছেন।ছেলের খোঁজে এসে বিলাপ করে কাঁদছেন তারা। সেখানে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। আব্দুল মালেক বলেন, আমার ছেলে কামাল ছয় মাস ধরে আব্দুল্লাহর বাড়িতে কাজ করত। কবুতর পালন করার জন্য কাজে রেখেছিল আব্দুল্লাহ। প্রতি মাসে থাকা খাওয়াসহ ছয় হাজার টাকা দিত।
কামালের মা নূরজাহান বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমারা বাবার সঙ্গে ঈদের দিনও কথা হয়েছে। বাবা বলেছে, বেতন পেলে বাড়ি আসবে। সেই কথাই শেষ কথা।চার ভাই এক বোনের মধ্যে কামাল দ্বিতীয়। ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশা গ্রামে তাদের বাড়ি। কামালের বয়স ২২ বছর। এক বছর আগে বিয়ে করেছেন কামাল।র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন, (আব্দুল্লাহ) গত ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছে। কবুতর ও ইউপিএসের ব্যবসার আড়ালে সে জঙ্গিবাদে জড়িত ছিল।রাজধানীর মিরপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাবে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল ‘জঙ্গি আস্তানার’ ভেতরে প্রবেশ করে। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গত সোমবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর মাজার রোডের বর্ধনবাড়ি এলাকার ‘কমল প্রভা’ নামের বাড়িটি ঘেরাও করে র‌্যাব। এরপর মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বাড়িটিতে পরপর তিনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়। বাড়ি থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হয়। বিস্ফোরণের পর র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিরা নিজেরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। বুধবার ভবনের ভেতর থেকে সাতজনের কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহাবশেষ পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তাঁর দুই স্ত্রী, দুই ছেলে এবং বাকি দুজন কর্মচারী বলে ধারণা করে র‌্যাব।