ছাত্রলীগের হামলা: নুরকে বাঁচালেন ঢাবি শিক্ষক

ঢাবি প্রতিনিধি : কোটা আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যখন মাটিতে ফেলে বেদম পেটাচ্ছিলেন, তখন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এস এম জাবেদ আহমেদ। তিনিই নুরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

অধ্যাপক জাবেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগরিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার নুরুলকে ধরে নিয়ে গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকিয়ে এক দফা পেটায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে তাকে বাইরে বের করে মাটিতে ফেলে চলতে থাকে লাথি।

এ সময় ছুটে আসেন জাবেদ আহমেদ। আর তার পা ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন নুরুল হক।

অধ্যাপক জাবেদ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তাকে নিয়েও কটূক্তি করতে থাকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সেই সঙ্গে নুরুলকে মারধর চলতে থাকে।

কিন্তু ছেলেটির বিপদ দেখে দমে যাননি জাবেদ। তিনি জাপটে ধরে নুরুলকে সরিয়ে নেন নিরাপদ দূরত্বে।

অধ্যাপক জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়ার পরও তারা আমার ওপরও চড়াও হয়। আমাকে গালাগালি করেছে। আমার হাতের তালু কেটে গেছে।’

ছাত্রলীগের কর্মীদের সমালোচনা করে এই শিক্ষক বলেন, ‘আমি বলেছি, মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তোমরা সবাই ছাত্র। সহপাঠী সহপাঠীর ওপর এভাবে হামলা করতে পারে না।’

ছাত্রলীগের দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন জাবেদ। বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি, আর আমার পরিচয় পাওয়ার পরও তারা (ছাত্রলীগ) আমাকে গালাগালি করেছে। আমি এখনই পদত্যাগ করব।’

কোটা বাতিলে দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সকালে গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

এ সময় নুরুলকে টেনে ধরে গ্রন্থাগারে ঢুকান ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। আর ছাত্রলীগের স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন তাকে পেটাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীও তখন তাকে লাথি, ঘুষি চড়, থাপ্পর দিতে থাকে। পরে তাকে গ্রন্থাগারের বাইরে টেনে নিয়ে এসে মারধর চলতে থাকে।

এই হামলার প্রতিবাদে রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ডেকেছে কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ায় কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে অস্থিরতা রয়েছে।

গত ২ মে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এবং ২৭ জুন জাতীয় সংসদে আবারও কোটা থাকবে না বলে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি কীভাবে বাতিল করা যায়, সে জন্য একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানান তিনি।

Inline
Inline