চেলসির বিপক্ষে পিএসজির দারুণ জয়

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো রাউন্ডের প্রথম পর্বে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। এখানে হারলেও প্রতিপক্ষের মাঠে মূল্যবান একটি গোল পাওয়ায় ফিরতি পর্বে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার আশা করতেই পারে চেলসি।

প্যারিসে মঙ্গলবার রাতে ফেভারিটের তকমা নিয়ে পিএসজি মাঠে নামলেও প্রথম সুযোগটা পায় চেলসি। বক্সের ডান দিক থেকে ঘানার ডিফেন্ডার বাবা রহমানের বাড়ানো ক্রসে হেড করেছিলেন দিয়েগো কস্তা। গোল হতে পারতো, কিন্তু বল গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে বাধা পায়। এই নিয়ে এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি ছয়বার চেলসির গোলের প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে নষ্ট হলো।

শুরু থেকে অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে খেলতে থাকা পিএসজি ৩২তম মিনিটে সহজতম সুযোগটি পেয়েছিল। কিন্তু আট গজ দূরে ফাঁকায় বল পেয়েও দুর্বল হেড করেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ছয় মিনিট বাদে আর ব্যর্থ হননি স্বাগতিকদের সেরা তারকা। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে সুইডেনের এই স্ট্রাইকারের নিচু ফ্রি-কিক জন ওবি মিকেলের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষক থিবো করতোয়ার কিছুই করার ছিল না।

এই নিয়ে ইউরোপ সেরার মঞ্চে টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন ইব্রাহিমোভিচ। প্রতিযোগিতায় তার মোট গোল হলো ৪৬টি।

স্বাগতিকদের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, বিরতির খানিক আগে ওবি মিকেলই চেলসিকে সমতায় ফেরান। কর্নার থেকে পাওয়া বল ফ্লিক করে বাড়ান কস্তা আর তা ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এই নাইজেরিয়ার মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার উইলিয়ান পিএসজির পেনাল্টি বক্সে কস্তাকে লক্ষ্য করে বল বাড়িয়েছিলেন। স্পেনের এই স্ট্রাইকার বলের কাছে পৌঁছলেও গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপের পায়ে লেগে পড়ে যান। ১০ মিনিট বাদে সুযোগ নষ্টের হতাশায় ডোবে পিএসজি, ব্রাজিলের মিডফিল্ডার লুকাসের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক করতোয়া।

তবে ৭৯তম মিনিটে আর পিএসজির ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে দেয়াল হয়ে থাকতে পারেননি বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক। আনহেল দি মারিয়ার চিপ করে বাড়ানো বল পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যেভেদ করেন পাঁচ মিনিট আগেই বদলি নামা উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড এদিনসন কাভানি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।