চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ

হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় স্বামী মামুন আলীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ডিত মামুন আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সদাবরী গ্রামের আশুব্বার আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন।  রায় ঘোষণার সময় মামুন আলী অনুপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামুন আলীর সঙ্গে একই উপজেলার চিৎলা গ্রামের রহিম হোসেনের মেয়ে সাগরী খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের দেড় বছর পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ অন্যরা মিলে সাগরী খাতুনকে নির্যাতন করত। ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাগরীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন। পরে তার লাশ বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে হত্যাকারীরা। সাগরী পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে তার স্বামী মামুন পরের দিন শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে জানান।

২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিহত সাগরীর পিতা আশুব্বার আলী বাদী হয়ে দামুড়হুদা থানায় ৬ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামুন আলীকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ির এসআই জোবায়েদ খান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দীর্ঘ ৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া হায়দার মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ট্রাইব্যুনাল। মামুন পলাতক রয়েছেন।

Inline
Inline