চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিদ্যুত শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা: আটক ২

হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার নান্দবারে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজীব হোসেন(২২) নামে এক যুবকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নান্দবার গ্রামের মসজিদের পাশে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নায়ক ও ফিরোজ নামের দু’জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রাজীব হোসেন স্থানীয় বিদ্যুত শ্রমিক ও একই উপজেলার মোচাইনগর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সোনা উদ্দিনের ছেলে।
এলাকাবাসী জানায়, রোববার রাত ৮টার দিকে আসমানখালী বাজার থেকে বাজার করে আলমসাধুযোগে বাড়ি ফিরছিলেন রাজীব। এসময় তিনি নান্দবার গ্রামের মসজিদের কাছে পৌঁছলে চার জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমসাধু থেকে নামিয়ে নেয়। পরে টেনে হিঁচড়ে পাশ্ববর্তী মসজিদের পাশে নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এতে রাজীব চিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান রাজীব। ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে তার বাড়ি পাঠায় স্থানীয়রা।
বড় গাংনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাজীবের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলমডাঙ্গার শালিকা গ্রামের খবির সরদারের ছেলে আলমসাধু যাত্রী নায়ক ওরফে লিটন(৩০) ও মোচাইনগর গ্রামের কাউছার আলীর ছেলে আলমসাধু চালক ফিরোজ হোসেন(২৪) কে আটক করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান জানান, রাজীবের মরদেহ উদ্ধার করে বড় গাংনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সকালে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী পান বরজে অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডরে ব্যবহৃত একটি ছোরা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও আলমডাঙ্গা সার্কেল) মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ। বিদ্যুত শ্রমিক রাজীব এক সন্তানের জনক ছিলেন। দুই ভাই বোনের মধ্যে রাজীব ছিলেন বড়। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তিনি ছিলেন এলাকার খুব প্রিয় মুখ। তার মৃত্যুর সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Inline
Inline