চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন দুটি জাতের তরমুজ চাষ : কৃষকরা স্বাবলম্বী

হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন দুটি নতুন জাতের তরমুজ চাষ করছেন কৃষকরা। সহজ ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ তরমুজ চাষের দিকে ঝুকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে তরমুজ চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ জাতের তরমুজ মাঁচায় চাষ করতে হয়। দেশে তরমুজের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির সম্ভবনা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্লাক প্রিন্স জাতের তরমুজের চাষ করেছেন কৃষকরা। গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের উপরের রং হলুদ ও ব্লাক প্রিন্স জাতের তরমুজের উপরের রং গাঢ় সবুজ। দুটি জাতের তরমুজের ভেতরের রং গাঢ় লাল ও খেতে বেশ সুস্বাদু। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষকরা মাঠে অন্য ফসল চাষ বাদ দিয়ে সারা মাঠে এই তরমুজ চাষ করছেন। গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজ সাধারণত মাচায় চাষ হয়ে থাকে মাঠে প্রতিটি মাঁচায় ঝুলছে সবুজ আর হলুদ তরমুজ। জেলার অন্য উপজেলায়ও কিছু কিছু এই তরমুজ চাষ করছেন। চাষের দুই মাস পর গাছে ফল ধরতে শুরু করে। গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের চাহিদা বেশি। গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ প্রায় ৫০-৬০ কেজি দরে বিক্রি হয়। আর ব্লাক প্রিন্স তরমুজ ২৫-৩৫ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়। কৃষকরা বলছেন, বাজার দর ভাল থাকলে তরমুজ চাষ করে প্রতি বিঘায় প্রায় ১ লাখ টাকা মত লাভ হয়। এ চাষে কোন লোকসান হয়না।
গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, চাষের দুই মাস পর ফল পাওয়া যায়। খরচ তুলনা মূলক কম হওয়ায় লাভ বেশি।
কৃষক জালাল বলেন, গ্রামের অনেক বেকার যুবক তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। গ্রামের দৃশ্য পাল্টে গেছে অনেক জেলার কৃষকরা তরমুজ চাষ সম্পর্কে আমাদের কাছে জানতে আসে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবায়ের মাশরুর জানান, তরমুজ চাষ সহজ ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ তরমুজ মাঁচায় চাষ করতে হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৫শ বিঘা জমিতে বেশি তরমুজ আবাদ হচ্ছে। হলুদ রং এর তরমুজের চাহিদা বেশি।