‘চীনের কারণেই উ. কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা থেমে আছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত তার প্রশাসন করছে না, বলেও ট্রাম্প ধারাবাহিক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন।

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, যেকোনো মুহূর্তে চাইলেই যুক্তরাষ্ট্র এই মহড়া পুনরায় শুরু করতে পারে৷ শুধু তাই নয়, এবার যৌথ মহড়া শুরু হলে সেটা অতীতের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বড় হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি৷

এক বিবৃতিতে কোরীয় সংকটে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে উপযুক্ত ‘চাপ প্রয়োগের’ আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

একদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ কদিন আগেই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় উত্তর কোরিয়া সফর বাতিল করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও৷

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়াকে উত্তর কোরিয়া তার দেশের ওপর আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে৷ ফলে আলোচনা এগিয়ে নিতে জুন মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বাতিল করেন ট্রাম্প৷

অবশ্য বুধবার দেয়া বিবৃতিতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রশংসাই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ এই সম্পর্ককে ‘সুন্দর ও উষ্ণ’ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি৷

জুন মাসে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প ও কিম কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হন৷ কিন্তু এরপর থেকে হোয়াইট হাউস অভিযোগ করে আসছে, পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করতে যথেষ্ট উদ্যোগী নয় উত্তর কোরিয়া৷ মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও বরাবরই এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন৷

তবে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে সম্পর্কের অবনতির ফলে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু ইস্যুতে চাপ দিচ্ছে না চীন৷ জ্বালানি, সার এবং বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করে বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করে চলেছে বলেও অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের৷

সূত্র: ডয়েচে ভেলে