চিকিৎসায় নোবেল পেলেন দুই গবেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই রোগ প্রতিরোধক বিশেষজ্ঞ। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে জেমস পি অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজোর নাম ঘোষণা করে।

ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় দুই বিজ্ঞানী নোবেল পেয়েছেন বলে ইনস্টিটিউটের টুইটার অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে। এই দুই গবেষক ক্যানসারের চিকিৎসায় নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি আবিষ্কার করেছেন।

নোবেল কমিটি বলছে, জেমস পি অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজোর মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দিপ্ত করে ক্যানসার কোষকে প্রতিহত করার জন্য ‘ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি’ নামে যে পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন তা ক্যান্সারের চিকিৎসায় ‘রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে’। ইমিউন সিস্টেম হল একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে মানবদেহের কোষগুলোকে সুরক্ষা দেয়। রোগের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ইমিউন সিস্টেম যেন কখনও কোষের ক্ষতি করে না বসে, সেই ব্যবস্থাও প্রকৃতিগতভাবেই থাকে। কিছু ক্যান্সার এই সুযোগটা নেয় এবং ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে বাড়তে থাকে।

বিবিসি জানায়, যে প্রোটিনের কারণে ইমিউন সিস্টেম নিজের কোষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে, সেই প্রোটিনটি গবেষণার মাধ্যমে শনাক্ত করেন অ্যালিসন ও হোনজো। তারা ওই প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করার পদ্ধতি খুঁজে বের করেন, যাতে ইমিউন সিস্টেম টিউমারকে আক্রমণ করে নির্মূল করতে পারে।

১৯৯০ এর দশকে তাদের এই গবেষণার পথ ধরে ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন ওষুধ তৈরি হয়, যা হাজারো রোগীর জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।

বিবিসি লিখেছে, বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ ধরনের ত্বকের ক্যান্সার মেলানোমার চিকিৎসায় ‘ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সবাইকে হয়ত এই থেরাপি সারিয়ে তুলতে পারে না, তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে খুবই ভালো কাজ করে।

এ ধরনের রোগীকে ভালো করে তোলার কোনো পথ আগে চিকিৎসকদের জানা ছিল না। ইদানিং ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও ডাক্তাররা ‘ইমিউন চেকপয়েন্ট থেরাপি’ প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন।

জেমস পি অ্যালিসন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটির এমডি অ্যন্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক। অ্যালিসন ১৯৪৮ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যালিসে জন্মগ্রহণ করেন। অন্যদিকে তাসুকু জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। তিনি ১৯৪২ সালে জাপানের কিয়োটোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে কিয়োটো ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।

১৯০১ সাল থেকে শুরু হয়ে চলতি বছর পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ১১০ জন বিজ্ঞানী। এ পর্যন্ত ১২ জন নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। বিজ্ঞানের এই শাখায় সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে নোবেল পুরস্কার জেতেন ফ্রেডারিক জি ব্যানটিং। ইনসুলিন আবিষ্কার করার স্বীকৃতি হিসেবে মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯২৩ সালে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। আর সবেচেয়ে বেশি বয়সে ১৯৬৬ সালে এই পুরস্কার জেতেন পিটন রোয়ুস। টিউমার সৃষ্টির জন্য দায়ী ভাইরাস শনাক্ত করে তিনি ৮৭ বছর বয়সে চিকিৎসায় নোবেল পান।

এবার নোবেল পুরস্কারের ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার এই দুই বিজ্ঞানী ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেয়া হবে।