চাঁদপুর হাজীগঞ্জে পরকীয়া রহস্যেই হত্যা হলো রেবা: পুলিশ সুপার

এম এম কামাল, চাঁদপুর থেকে : চাঁদপুর হাজীগঞ্জে পরকীয়া প্রেমের রহস্যেই শ্বাসরুদ্ধভাবে হত্যা হতে হলো নাসরিন অাক্তার রেবাকে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনায় রহস্য উন্মোচন হয়েছে জানিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম।

তিনি বলেন, ‘গত ১২ তারিখ শুক্রবার সকালে পূর্ব হাটিলা সাকিনস্থ বেপারী বাড়ীর জৈনক প্রবাসি অাব্দুর রহিম এর মেজ মেয়ে নাসরিন অাক্তার রিবাকে কে বা কারা ধর্ষণ করলে পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তখন এই মৃত্যুটির ঘটনা রহস্যজনক হওয়ায় হাজিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে ভিকটিমের বাবা মামলা করেন। মামলা নং-২০ ও ধারা-৪৬০। এ ঘটনায় নিহত রেবার স্বামী হযরত অালীকে বাকিলা এলাকা হতে গ্রেফতার করে থানায় জিঙ্গাসাবাদ করলে সে চাঞ্চল্যকর পরকীয়ার তথ্যটি জানায়।’

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির অারো বলেন, ‘নিহত রেবা’র ছোট বোন অাইরিন অাক্তার রেখার(১৬) সাথে রেবার স্বামী হযরতের প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে রেখা ও হযরত দুজনকে একেবারে কাছে পেতে রেবাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনায় রেখা ঘটনার দিন রাতে রেবার পায়ে ওড়না পেচিয়ে পায়ের উপর বসে চেপে ধরে, অার হযরত রেবার বুকের ওপর বসে তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে। এতে মৃত্যু না হওয়ায় অারো ক্ষিপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে রেবাকে বুকের পাজরে ঘুষি মারে এবং জোরে গলা টিপে হত্যা করে। এ অবস্থায় রেবা অজ্ঞান হয়ে গেলে রেখা মনে করে যে রেবা মারা গেছে।’

তিনি বলেন, স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে রেবার ঘরের দরজা ধাক্কা দিলে রেখা পিছনের দরজা দিয়া হযরতকে বের করে দেয় অার রেখা নিজেও অজ্ঞান হওয়ার নাটক করে বলে জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘বিষয়টি অাসামীদ্বয় বিজ্ঞ অাদালতে দোষ স্বীকার করবে বলে জবানবন্ধী দেয়। এ ঘটনায় অাসামীদ্বয়কে অাদলতে হাজির করা হবে।’

এ সময় অারো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাজিগঞ্জ সার্কেল মোঃ অাফজাল হোসেন, হাজিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা মোঃ অালমগীর হোসেন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অপরাধ উদঘাটন উপ পরিদর্শক বকুল বড়ুয়া, হাজিগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক ফারুক অাহমেদ সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

Inline
Inline