চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ: ডব্লিউইএফ

প্রযুক্তির নির্ভর এই বিশ্বে উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে এসে বিশ্বের দেশগুলো কতটা প্রস্তুত রয়েছে তা সূচক আকারে প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। এতে প্রস্তুতি গ্রহণের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো। শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী অন্যান্য দেশও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।

গতকাল ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম প্রকাশিত ‘রেডিনেস ফর দ্যা ফিউচার অব প্রোডাকশন এসেসমেন্ট ২০১৮’ প্রতিবেদনে একশটি দেশের মধ্যে উৎপাদন কাঠামোর সূচকে ৮০তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত রয়েছে ৩০তম অবস্থানে, শ্রীলঙ্কা ৬৬তম, পাকিস্তান ৭৪তম অবস্থানে।

মূলত প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যৎ বিশ্বে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আসবে তার প্রস্তুতি কতটা রয়েছে সেটি সূচক আকারে এতে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার, মানব সম্পদ তৈরি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশত বিষয়গুলোর মতো ৫৯টি সূচকের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্বে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারকে প্রথম শিল্প বিপ্লব বলে চিহ্নিত করা হয়। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছিলো বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পর। গেলো শতকের মাঝামাঝি ইলেকট্রনিকস পণ্য আবিষ্কারের পর বিশ্বে শুরু হয়েছিলো তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের। বর্তমানে বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লব তথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছে বলা যায়। এখন শিল্প কারখানাগুলোতে রোবটের ব্যবহার ছাড়াও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যবস্থায় বিপ্লব শুরু হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের এই সূচকে শীর্ষে রয়েছে জাপান, এর পরেই শীর্ষ দশে ক্রম অনুসারে রয়েছে কোরিয়া, জার্মানী, সুইজারল্যন্ড, চীন, চেক রিপাবলিক, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, অষ্ট্রিয়া, আয়ারল্যন্ড। নিচের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নাইজেরিয়া (১০০তম), মঙ্গোলিয়া (৯৯তম), ক্যামেরুন (৯৮তম), ঘানা, ইথিওপিয়ার মতো দেশ। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে কম্বোডিয়া, কুয়েত, হন্ডুরাস, মালদোভা, প্যারাগুয়ের মতো দেশ।

বাংলাদেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১০০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের বা মাল্টি স্টেক হোল্ডার সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়গুলোতে। তাছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহারেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে নতুন পণ্য বা সেবায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সূচকে ৯৪তম, আর্থিক ও কাঠামোগত জটিলতার সূচকে ৯৭তম, নতুন উদ্ভাবন ক্ষমতার সূচকে ৯৭তম, জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচকে ৯৭তম, ভোকেশনাল ট্রেনিং মানের সূচকে ৯৫তম, কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সূচকে ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের বাণিজ্য কাঠামোতে কর ব্যবস্থাপনা অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত নয়। এই সূচকে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে ১০০টি দেশের মধ্যে দুর্নীতির সূচকেও রয়েছে ৯৬তম অবস্থানে। তবে দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় এদেশ নিয়ে আশাবাদি বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। তাদের দৃষ্টিতে এদেশে বড় ভোক্তাবাজার রয়েছে। সেইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজার হিসেবেও বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

Inline
Inline