‘ঘৃণাভরে’ রায় প্রত্যাখ্যান ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ‘ঘৃণাভরে’ প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিএনপি-জামায়াত মন্ত্রিসভার দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রতিহিংসা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে বিচারিক আদালত রায় দেয়ার কিছুক্ষণ পর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি মহাসচিব। একই সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল দুপুরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ৪৯ জনকে সাজা দেয়। এর মধ্যে তারেক রহমান ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার রাজনৈতিক উপদেষ্ট হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

আর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ১৯ জনের হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয়েছে।

এই রায়ের আগেই বিএনপি সমালোচনা করে আসছিল। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাদেরকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ছিল তাদের।

রায়ের পর ফখরুল বলেন, ‘এই রায় আমরা ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করছি।…ফখরুল বলেন, এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। ক্ষমতসীন দলের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে। জাতির দুর্ভাগ্য এই যে সরকার তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে। তাই, এই রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

নৃশংস এই হামলাটি যখন চালানো হয়েছিল, তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদেরকে পালাতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই। আবার হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে ইচ্ছাকৃত নষ্ট করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই, যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে দেশে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা ফলপ্রসু হয়নি। সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে তারা বিরক্তি প্রকাশ করে দেশ ছাড়ে।

আবার সে সময় হামলাকারীদের বাঁচিয়ে হকার জজ মিয়াকে ফাঁসানের চেষ্টা করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সব ফাঁস হয়।

এসব কোনো বিষয়ে অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে জবাব পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার পর গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেননি ফখরুলসহ বিএনপির কোনো নেতা। দুটি প্রশ্ন করা হলেও কিছু না বলে উঠে যান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ।

Inline
Inline