ঘুষ বিষয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা, সহানুভূতি চান নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শের বিষয়টি গণমাধ্যমে বিকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করে সংসদ সদস্যদের সহানুভূতি চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি গণমাধ্যমে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছিল। আমি ব্যাখ্যা দিলেও সেটা প্রচার করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার নিয়ে সংসদেও আমার সহকর্মীরাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। বিষয়টির জন্য আমি বার বার বিব্রত হই। আমাকে এভাবে বার বার বিব্রত করবেন না। আপনারা আমার প্রতি সুবিচার করুন। আমি আপনাদের কাছে সহানুভূতি চাই।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান শিক্ষামন্ত্রীর ‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার’বিষয়ে বক্তব্যটি তুলে ধরেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী জবাব দেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকারী (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে দিয়ে তাদের ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেদিন তিনি শিক্ষা পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা নিয়ে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়া খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, নইলে অর্থহীন কথা হবে।’

দুর্নীতির বিস্তার বুঝাতে গিয়ে নাহিদ সেদিন আরও বলেন, ‘খালি যে অফিসার চোর তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।’

তীব্র সমালোচনার মুখে তিন দিন পর সচিবালয়ে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন নাহিদ। সেদিন মন্ত্রী বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেছিলেন।

‘অতীতে এই ছিল অবস্থাটা। মানুষের কাছে টাকাটা যখন চাইত, তখন বলত ওপরে দিতে হয়। ওপরে মানে কী? আরও বড় অফিসার, আরও বড় মন্ত্রী, তখন মানুষ বলত মন্ত্রীও খায়।’

‘তখন মানুষ মনে করত, আমলা, অফিসার আর মন্ত্রীরাও ঘুষ খায়। আমি মন্ত্রীও ঘুষ খাই, আমি মন্ত্রীও চোর, এটা মানুষের একটা ধারণা ছিল। শিক্ষকরা আমাদেরকে এ কথা বলেছেন।’

তবে শিক্ষামন্ত্রী এই ব্যাখ্যা দেয়ার পরও সে সময় তাকে সমালোচনা চলতেই থাকে। জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সংসদ সদস্যও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান।

আজ সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে একটা পত্রিকায় মিথ্যা একটা কথা প্রচার করা হয়। আমি নাকি বলেছি দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে করার জন্য। আমি উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম। দুর্নীতির জন্য ডিআইএ (পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর) একটা আখড়া ছিল। আমরা সেটাকে ভেঙে নতুন ফরমেটে শুরু করেছি।’

‘সেদিন অতীতের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম আমরা অভিযোগ পেয়েছি এখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ দিতে হতো, উপর লেভেল পর্যন্তও নাকি দিতে হতো। তখন আমি উপর লেবেল বলতে আমাকে মিন করেছিলাম। উপর লেভেল হলে তো আমি মন্ত্রীই।’’

‘আমি নাকি সব মন্ত্রীকে বলেছি। একথা মোটেই সঠিক না। এই বিষয়টা মোটেই সঠিক না। এটা নিয়ে বার বার নির্যাতন করা হয়। আমাকে বিব্রত করা হয়। আপনারা সংসদ সদস্যরাও এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনা করেন। দয়া করে আপনারা সত্য, ন্যায় বিচার করুন। আপনাদের কাছে সহানুভুতি চাই। আমাকে এইভাবে বিব্রত করবেন না।’

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়েও জবাব দেন নাহিদ। বলেন, ‘এইবার এসএসসির প্রশ্নফাঁস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এমনকি মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মন্ত্রণালয় এবং সব নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে কমিটি করেছিলাম।’

‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে, মাত্র কয়েকটি প্রশ্ন আংশিক, তাও পরীক্ষা শুরু ৩০ মিনিট পর আউট হয়েছে। তাও সেটা ৩০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন। সেটাও আবার ‘ক’ সেট। আমরা গোপন রাখি নাই, তদন্ত করে প্রকাশ করেছি।’

বিভিন্ন দেশের প্রশ্নফাঁসের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের দিল্লিতে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্টেটভিত্তিক কিছু পরীক্ষা হয়। এবার স্টেটের কিছু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সিঙ্গাপুরেও প্রশ্নফাঁস হয়েছে। ইংল্যান্ডেও প্রশ্ন আউট হয়েছে। আজ ইন্টারনেটের যুগে এগুলো সব জায়গাতেই হচ্ছে।’

Inline
Inline