ঘুষের অভিযোগে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদকের বিশেষ অভিযান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামীর সঙ্গে দেখা করার সময় কারাগারের কর্মচারীর ঘুষ দাবির অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সোমবার দুদক হট লাইনে জনৈক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের এ অভিযান চালায়। তবে ঘুষ দাবি করা কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, জনৈক ব্যক্তি সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ এ অভিযোগ করে জানায়, তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার আত্মীয়র সঙ্গে দেখা করতে গেলে কারাগারের জনৈক কর্মকর্তা/কর্মচারী তার নিকট ঘুষ দাবি করছেন। এ অভিযোগের পরপরই কমিশনের মহাপরিচালক প্রশাসন দুদকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন এর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেন। টিমের সদস্যরা দুদকের সশস্ত্র পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। তারা উপস্থিত আসামিদের সাথে স্বাক্ষাতের জন্য আগত স্বজনদের সাথে হয়রানি/ঘুষ এবংদালাল চক্রের দৌরাত্মের বিষয়ে কথা বলেন। এসময় জনৈক মুশফিকুর রহমান তাদেরকে জানান যে, জনৈক ব্যক্তি সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার নাম করে তার নিকট ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। তার নিকট ৫০০ টাকা না থাকায় এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিতে রাজী না হওয়ায়, তিনি এখনও বন্দির সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন নি। দুদক টিমের সদস্যরা যে ব্যক্তি তার নিকট টাকা চেয়েছেন তাকে চিহ্নিত করার জন্য বললেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঐ ব্যক্তিকে খুঁজে পাননি। পরে তারা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেনের সাথে কথা বলেন।

ডেপুটি জেলার জানান, তাদের কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। তাছাড়া বাইরে জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ফোন নম্বর দেয়া আছে। কেউ চাইলে যে কোন অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন। এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সে সময় দুদক কর্মকর্তারা বলেন, কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ এ আমরা প্রায়শই এ জাতীয় অভিযোগ পেয়ে থাকি। হয়রানি এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে সরকারি সেবা প্রদান করা সকল সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব। তাই কর্তৃপক্ষের এজাতীয় অভিযোগের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এছাড়া কমিশনের কর্মকর্তারা আরও বলেন, কমিশনের স্ট্রইকিং ফোর্সের সদস্যরা এজাতীয় অভিযোগ পেলে দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে চলে আসবে। কোন অবস্থাতেই সাক্ষাৎ প্রার্থীদের হয়রানি করা যাবে না।