গ্রাহকরা আতংকিত; কমে গেছে প্রমিমিয়াম আদায়

এস এম হাসান আলী বাচ্চু, তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: জীবন বীমা কর্পোরেশন তালা শাখার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার স্বপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতী করে বীমা প্রতিনিধির টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তার এহেন অপকর্মের কারনে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে অনাস্থাভাব বিরাজ সহ গ্রাহকরা আতংকীত হয়ে পড়েছে। এতে প্রিমিয়াম আদায় কমে যাওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা স্বপন কুমার সরকার রাষ্ট্রয়াত্ব বীমা প্রতিষ্ঠান- জীবন বীমা কর্পোরেশনের তালা শাখায় ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। এই দায়িত্বে থাকার সুযোগে সম্প্রতি সে তার অধিনস্থ প্রতিনিধি শরিফা খাতুনের পারিশ্রমিকের ৮৩ হাজার ৬ টাকা জালিয়াতীর মাধ্যমে আত্মসাৎ করতে যেয়ে ধরা পড়ে। শরিফা খাতুনের পারিশ্রমিকের উক্ত অর্থ সোনালী ব্যাংক তালা শাখায় দুইটি “একাউন্ট পে” চেক’র মাধ্যমে প্রদান করা হয়। কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী চেক দুটি শরিফা খাতুনের কাছে না দিয়ে তা ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার স্বপন কুমার’র কাছে রাখে। এই সুযোগে স্বপন কুমার চেকে শরিফার নাম কেটে সেখানে তার নিজস্ব লোক হিসেবে অপর প্রতিনিধি রেখা রানী দাশের নাম এবং একাউন্ট নাম্বার লিখে তালা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে কৌশলে অন্য একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করে। এসময় সে চেক দুটিতে শরিফার নাম কাটাকাটি করার কারনে জীবন বীমা কর্পোরেশন তালা শাখার ডেভেলপেেমন্ট ম্যানেজার (ইনচার্জ) অশোক কুমার কর্মকার ও অফিস সহকারী মো. জিয়াদুল ইসলাম’র প্রতিস্বাক্ষর জাল করে। কিন্তু জাল করার বিষয়টি সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার চেকটি আটকিয়ে দিয়ে বীমা অফিসে সংবাদ দিলে অপকর্মের ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এদিকে বীমা ম্যানেজার স্বপন কুমার সরকার কর্তৃক প্রতিনিধির চেক জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার পর থেকে অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীদের মাঝে সমন্বয়হীনতা সহ অনাস্থাভাব বিরাজ করছে। এছাড়া বিষয়টি ব্যাপক ভাবে জানাযানি হবার পর থেকে গ্রাহকরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। ফলে অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রিমিয়াম আদায় ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার স্বপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদে টাকা সময়মত জমা না দেওয়া, কর্মীদের সাথে অসদাচারন ও নারী ঘটিত সহ নানান অভিযোগ রয়েছে।