গোপালগঞ্জে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী গণধর্ষণের স্বীকার : মামলা তুলে নিতে হুমকী অব্যহত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৫ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকী অব্যহত রেখেছে আসামীরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে বেলা ১টায় অভিযোগকারীর নাতনী, পূর্ণবতী গ্রামের পূর্ণবতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে একই গ্রামের গাঁজাখোর, ইয়াবাখোর, চরিত্রহীন, লম্পট, নারী আসক্ত ও ধর্ষণকারী প্রকৃতির মিন্টু শেখের ছেলে সাগর শেখ (১৯) ও মহিদুল শেখের ছেলে কালু শেখ(১৮) ধর্ষিতার সঙ্গে অবৈধ মেলা মেশায় কুপ্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় নিজের বাড়ী থেকে নানী বাড়ী যাওয়ার সময় পথিমধ্যে গামছা দিয়ে মুখ বেধে, ধঞ্চিয়া খেতের মধ্যে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তাহার চিৎকারে মামলার বাদীসহ আশপাশের লোকজন ঘটনা স্থলে পৌছালে ধর্ষণকারীরা তাদের দেখে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে, আসামীরা আপোষ করার আশ্বাস দিয়ে না করলে, বাদী কোটালীপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহন না করায়, গোপালগঞ্জ ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৯(৩)/৩০ ধারায় ৩০/০৫/২০১৭ইং তারিখে অভিযোগ দায়ের করিলে, ট্রাইবুনাল কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা রুজু করার জন্য আদেশ দেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গত ০৮/০৬/২০১৭ইং তারিখে কোটালীপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু হয়, মামলা নং- ৭/১৫০।
মামলার বাদী সাংবাদিকদের বলেন, আসামী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে হুমকী এবং ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করতে যেতে বাধা প্রদান করে আসছে। এ দিকে গত ১৩ জুন সকালে ধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষা করানোর জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে, গ্রাম্য মাতবর মান্নান শেখের নের্তৃত্বে শতাধিক লোকজন ধর্ষিতার বাড়ীতে গিয়ে ঘরের উপর হামলা চালিয়ে মামলার বাদীসহ দাদী ও মাকে মারধর করে। খবর পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোটালীপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থলে পৌছে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করানোর জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষা করানোর জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি, কোন আসামী এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি তবে পুলিশী অভিযান অব্যহত রয়েছে।