গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা সংলগ্ন রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝ দিয়ে কার্পেটিং রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে কার্পেটিং রাস্তাটি না করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।
প্রধান শিক্ষক তার আবেদনে উল্লেখ করেন বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে কার্পেটিং রাস্তাটি তৈরী হলে বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা স্বাধীন ভাবে ঘোরা ফেরা ও চলাচল করতে পারবে না। রাস্তাটি তৈরী হলে ব্যান, মটর সাইকেল, নছিমন ও ভারী মালামাল বহনকারী পরিবহনের কারনে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের সমাবেশ করা সম্ভব হবে না। তিনি তার আবেদনে আরো উল্লেখ করেন বিদ্যালয়ের জাতীয় সংগীত চলাকালিন সময়ে মানুষ, ও গরু-ছাগলের বিচরনে তা ব্যহত হবে কারন গুলি উরেøখ করে তিনি ওই আবেদন করেন।
৩৮নং পশ্চিমপাড়া রাতইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম ডি শাহ আলম জানান, আমি গত ১৬/০২/২০১৭ ইং তারিখে ৩৮নং পশ্চিমপাড়া রাতইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা সংলগ্ন রাস্তা নির্মান না করার জন্য কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মাঈন উদ্দীন আমার লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে ওই রাস্তাটি নির্মান না করার নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ না মেনে গত ২৫/০৪/১৭ ইং তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয় বারান্দা সংলগ্ন রাস্তাটির পুন:নির্মান কাজে হাত দেয়। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন এই রাস্তায় প্রায়ই ভ্যান, মোটরসাইকেল, নসিমন ও ভারি যানবহন দ্বারা দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে তা ছাড়া রাস্তাটি কাপেটিং হলে আরো বেশি দুর্ঘটনা ঘটবে।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী উপজেলা প্রকৌশলী মো: হাবিবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল-০১৭১২-৯৮২১৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে সরকারি ও পারিবারিক কাজের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। আমি ঢাকায় আসার আগে ঠিকদারী প্রতিষ্ঠানকে রাস্তাটি নির্মানের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কি কারনে তারা আবার কাজ শুরু করলো তা আমার জানা নেই। তবে আমি বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে ওই রাস্তা নির্মানের বিরোধি কারন ওই রাস্তাটি নির্মান হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে ব্যহত হবে তা ছাড়া প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই থাকবে। আমি ঢাকা থেকে ফিরে অবশ্যই রাস্তা নির্মান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাঈন উদ্দীন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ পেয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। শুনেছি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি নির্মানের জন্য পুনরায় কাজে হাত দিয়েছে আমি রবিবার ঘটনা স্থলে গিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে রাস্তাটি নির্মান না করার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।