গোপালগঞ্জে নৈশ প্রহরী নিয়োগকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ৭২নং তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্ছিত, সংঘর্ষ, বাড়ী ঘর ভাংচুর , মামলা ও পাল্টা মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করেছে। দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশংকা করছে ওই এলাকার শান্তি প্রিয় সাধারন মানুষ।
গতকাল সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ৭২নং তেতুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নাইট গার্ড পদে ওই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শের আলী শেখের ছেলে আসলাম শেখ আবেদন করেন। কিন্তু এলাকার হতদরিদ্র হিঙ্গুল সিকদারের ছেলে কাদের সিকদারকে ওই পদে চাকরি দেয়ার জন্য স্থানীয় সাংসদ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খানের সুপারিশ নিয়ে আসেন তার পক্ষের লোকজন। এক পর্যায় কাদের সিকদার চাকুরি পেয়ে যান।
তেতুলিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বলেন, সভাপতির ছেলের চাকরি না হওয়ায় গ্রামের দলাদলির কারনে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৬ জানুয়ারী তাদের লোকজন আমার স্বামী পাশ্ববর্তী ১০০ নং ভুলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনকে স্কুল থেকে বাড়ীতে ফেরার পথে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরদিন ৭ জানুয়ারি সকালে বিবাদমান দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ছেলে মিন্টু শেখের নেতৃত্বে তার পক্ষের লোকজন আমাদের এবং একই গ্রামের রাজিব সিকদার ও ফরিদ সিকদারের বাড়ীতে হামলা চালায়। হামলাকারিরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এদিকে হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রতি পক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিপ্লব সিকদার (৩৫), ফরিদ সিকদার (৫০), কামাল সিকদার (৪২), খসরু সিকদার (৩৮) ও জামাল সিকদার (৪৮) আহত হন। আহতদের প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদ সিকদারকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে গত ৮ জানুয়ারী ২৬ জনকে আসামী করে গুরুতর আহত ফরিদ সিকদারের ভাই রাজিব সিকদার বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্কুল কমিটির সভাপতির ছেলে আসলাম শেখ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব থেকেই গ্রামে দলাদলি রয়েছে। প্রতি পক্ষের লোকজন তাদের দলের কোরবান সিকদারকে (৫০) কুপিয়ে আহত করেছে। তবে কোথায় তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি সে বা তার পরিবার। তবে এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানা আমলী আদালতে তাদের পক্ষ থেকে মামলা করা হযেছে।
ওই গ্রামের রাজিব সিকদার (২৮) অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মামলায় ফাঁসাতে হাসপাতালের ডাক্তারকে ম্যানেজ করে ব্লেড দিয়ে কোরবানের মাথা ফেঁড়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়েছে। ওই দিন কোরবান কোন হামলার শিকার হননি বলেও তিনি জানান। কোরবানকে তার দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে বলির পাঠা বানানো হয়েছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী ভুলবাড়িয়া গ্রামের পলু সিকদারের টং দোকান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে আরো একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষকে হযরানি করা হচ্ছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনার সত্যতা খুজে পাওয়া যায়নি।
তেতুলিয়া গ্রামের মোঃ লায়েক আলী সিকদার (৮২) অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন অসুস্থ্য মানুষ। বয়সের কারনে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারিনা। সম্প্রতি আমার মেরুদন্ডে অপারেশন করা হযেছে। সব সময় আমাকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়। এই বযসে আমাকেও আসামী করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন স্থানীয় আ’লীগ নেতা আব্দুল্লাহ সিকদার ও নারায়নগঞ্জে চাকুরিরত এ গ্রামের এক পুলিশ সদস্য নূর মোহাম্মদ সিকদারের মদদে শের আলী শেখ ও তার লোকজন এলাকায় শান্তি বিনষ্ট করে চলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় অনেক বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি তার আশংকার কথা জানান।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ সিকদারের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলী নূর হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইতি মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভাবে ঘটনার তদন্ত করতে বলেছি। তবে প্রকৃত দোষীদেরকে আইনের আইনের আওতায় আনা হবে।