গোপালগঞ্জে ডায়বেটিক সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : বেতন-ভাতাসহ চাকরীর স্থায়ী করনের দাবীতে মানববন্ধন করেছে গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

রোববার বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়।

ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সমিতির কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবুল, পারভেজ শেখ, জাহানারা বেগম প্রমুখ।

মানববন্ধনে সমিতির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মানসুরা বেগম(৩৫) বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি এমএলএসএস পদে চাকরি করছেন। চাকরির শুরুতে তার কাছ থেকে লাখ টাকা ডোনেশান নেয়া হয়। জাতীয় স্কেল অনুযায়ী তাকে বেতন নির্ধারন করা হবে বলে ওই সময় তাকে জানানো হয়। কিন্তু গত এক বৎসর তিনি কোন বেতন পাননি। এরমধ্যে কয়েক মাস আগে একবার তিন হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সমিতির কর্মচারী রাবেয়া কাজী(২৫) বলেন, ‘দেড় বছর আগে রিসিপসনিস্ট পদে তিনি চাকরিতে ঢুকেছেন। তিনি দুই লাখ টাকা ডোনেশান দেন। বর্তমানে সমিতিতে ১০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৭২জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট থেকে এক কোটি ৩১ লাখ টাকা ডোনেশান গ্রহন করে সমিতির তৎকালীন কার্যকরী কমিটি। ডোনেশানের ওই টাকা থেকে সমিতির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে বলে তাদের জানানো হয়। কিন্তু এক বছর ধরে চাকরি করলেও তিনি বেতন ভাতা পাননি’।

তিনি আরো বলেন, ‘কমিটির আহবায়ক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাদের কাজ করে যাওয়ার জন্য বলেন। গত চার মাস ধরে আমরা কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু আমরা বেতন ভাতা পাচ্ছি না। আমরা বর্তমানে চরম দূর্দশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। নিয়মিত বেতন ও চাকরী স্থায়ীকরনের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ করছি’।

উল্লেখ্য, গত চার মাস আগে দূর্নীতির অভিযোগে সমিতির কার্যকরী কমিটির তৎকালীন সম্পাদক ডা: আবিদ হোসেনকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া পরবর্তীতে ওই কার্যকরী কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়।