গোপালগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ঈদের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই গোপালগঞ্জে জমে উঠছে ঈদের বাজার। পরিবার-পরিজনদের জন্য পোষাক কিনতে বাজারে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ক্রেতারা। বাজারে নানা ডিজাইনের পোষাক থাকলেও দেশী ও ভারতীয় সুতি কাপড়ের পোষাক দখল করে নিয়েছে ঈদের বাজার। এবারের ঈদে পোশাকের দাম গত বছর থেকে তুলনা মূলক বেশি ক্রেতারা এমন অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন অত্যাধুনিক ডিজাইনের পোষাক হওয়ায় দামও একটু বেশী।
জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদে নতুন পোষাক দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপণীবিতান গুলোতে ছুটছে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি কারণে আয়ের সাথে মিল রেখে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। তবে প্রতিটি দোকানে পুরুষের চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যা বেশি। শুধু বড়রাই নয় পছন্দ মত পোষাক কিনতে শিশুদের নিয়ে দোকানে ভিড় করছেন তাদের মা-বাবা।
এবারের ঈদে নতুনত্বের ছোঁয়া এসেছে বাজারে। দোকান গুলোতে রাখা হয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের নানা রঙের পোষাক। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তৈরী পোশাকের বিপণীবিতানে রকমারি পোষাক শোভা পাচ্ছে। এসব পোশাকের পাশাপাশি নিত্য নতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতি চাহিদা রয়েছে ছেলে-মেয়ে উভয়ের। তবে দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয় আর আরামদায়ক হওয়ায় এসব ক্রেতার প্রথম পছন্দই দেশী সুতি ড্রেস।
এবার ঈদে বিক্রেতারা নতুন ডিজাইনের অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম ইচ্ছামত বাড়াচ্ছে বলে অনেক ক্রেতার অভিযোগ। বাড়তি দামের কারণে ছেলে-মেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-বৃত্ত পরিবার গুলো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এবারের ঈদে বাজারে নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারি ডিজাইনের নানা বৈচিত্র্যের পাঞ্জাবী বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ উৎসবে অন্যান্য পোশাকের সাথে থাকা চাই পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীর পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী, জিন্স প্যান্ট, চায়না গ্যাবাডিন, ফরমাল প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট, শেরওয়ানী প্রভৃতি।
অন্যদিকে মেয়েদের জন্য নামি-দামি ঈদের পোশাকের ছড়াছড়ি রয়েছে বড় বড় বিপণী গুলোতে। এবারের ঈদে মেয়েদের চাহিদার মধ্যে লেহেঙ্গা, লং, ফ্লোটার্স। এ ঈদে প্রকার ভেদে লেহেঙ্গা এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরম আর দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয় হওয়ায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দই দেশী সুতি থ্রি পিস, জামদানি, টাঙ্গাইল ও সুতি জামদানী শাড়ির। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, নানা রঙের জুতা-স্যান্ডেল, জুয়েলারি এবং কসমেটিকসের কিনছেন।
গোপালগঞ্জ শহরের থান কাপড় ও গার্মেন্টসের দোকান গুলোতে লেগে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখে শুনে কিনছেন পোষাক। ফলে দর্জি পাড়ায় যেন ফুসরত নেই কারিগরদের। দিন-রাত নানা ঢংয়ের পোষাক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যে কোন ভাবেই ঈদের আগে পোষাক তৈরী করে ডেলিভারি করতে হবে তাদের।
ঈদে নতুন পোষাক কিনতে আসা ক্রেতা তন্নী ইসলাম, আফরোজা খানম, আহম্মেদ রিজভী, হাসিব মুন্সি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম একটু বেশী। গত বছর যে থ্রি পিসের দাম ছিল এক হাজার থেকে ১৫’শ টাকা এ বছর সেই থ্রি পিসের দাম ১৯’শ থেকে আড়াই হাজার টাকা। একই পোষাক একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে নতুন পোষাক কিনতে গিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমাদের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দর দাম করে পোষাক কিনতে হচ্ছে।
বিক্রেতা জারা ফ্যাশনের মো: তরিকুল ইসলাম কামাল, শেখ তরিকুল, মা-কালী গার্মেন্টেসের নিখিল চন্দ্র সাহা জানান, এ বছর গরম পড়ায় সুতি পোশাকের কদর রয়েছে বেশি। অন্যান্য বারের তুলনায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে। ডিজাইনের কারণে মোকামে এ বছর পণ্যের দাম একটু বেশী। তাই বেশী দামে কেনায় বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখে শুনে কম দামে পণ্য কিনছেন। গোপালগঞ্জের ঈদ বাজারে নানা ডিজাইনের পোষাক থাকলেও মূলত: ভারতীয় ও চাইনিজ পোষাকই বাজার দখল করে রেখেছে। তবে দেশীয় সুতি কাপড়ের কদর কমেনি এখানকার ঈদ বাজারে।
তবে সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন সড়কে চলছে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ। এ উন্নয়ন কাজ ঈদ বাজার করতে আসা লোকজনের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পাইপ বসিয়ে ড্রেন নির্মাণের কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ থেকে বাদ যায়নি শহরের মূল কেন্দ্র বিন্দু চৌরঙ্গী। ব্যবসায়ীরা জানালেন ঈদের পরে ব্যবসায়ীক এলাকায় খুড়াখুড়ির কাজ করলে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সুবিধা হত।
ধনী বা দরিদ্র যেই হোক না কেন সবাই এখন ঈদ বাজার মুখি। ঈদে স্বজনদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে ঈদ বাজারে ভিড় করছেন। আর তাই শেষ মুহূর্তে গোপালগঞ্জের বাজার গুলোও জমে উঠেছে।

Inline
Inline