গোপালগঞ্জে কালো বাজারে চাউল বিক্রয় কালে গুদাম কর্মকর্তা জনতার হাতে আটক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ শেখ খাদ্য গুদামের চাউল কালো বাজারে বিক্রির সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন। এ সময় স্থানীয় জনতা চাউল ভর্তি ট্রাকসহ তাকে হাতে নাতে আটক করে কাশিয়ানী থানায় সোর্পদ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ভাটিয়াপাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ শেখ খাদ্য গুদামের চাউল স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ী বাপ্পী ও নুর ইসলামের কাছে কালো বাজারে বিক্রির সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন। এ সময় বাপ্পী ও নুর ইসলাম সটকে পড়লে ওই কর্মকর্তা ধরা পড়ে যান স্থানীয়দের হাতে। তাকে কাশিয়ানী থানা পুলিশে সোর্পদ করলেও মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে আসেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরে জনতার রোশানল থেকে ওই কর্মকর্তাকে বাঁচাতে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত দল গঠন করে একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে একটি সুত্র দাবী করে। অপর দিকে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ট্রাকসহ ৪ মেট্রিক টন চাউল জব্দ করলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ট্রাকসহ চাউল ছেড়ে দেন কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলীনুর হোসেন। ট্রাকসহ চাউল ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লেনদেন হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য জানায়।
এ ব্যাপারে ভাটিয়াপাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন দোষ নেই। গোডাউনের লেবাররা এ কাজটি করেছে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের এক পর্যায়ে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন যা ভুল হবার হয়েছে আপনারা এ বিষয়ে কোন নিউজ করবেন না। তিনি এ সময় সাংবাদিকদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলীনুর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি চাউল ও ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোন টাকা পয়সা লেনদেন করিনি। আমি ওই চাউলের কাগজপত্র দেখে চাউল ও ট্রাক ছেড়ে দিয়েছি। তবে টাকা পয়সা লেনদেনের ব্যাপারটা সত্য নয়। কে বা কাহারা ট্রাক ও চাউল ছাড়িয়ে নিয়েছেন সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননী ওই কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি সাধারন মানুষের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি উপজেলা ভেটেনারি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) আল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত দল তৈরী করে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন এক দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করি। তিনি আরো বলেন, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ী বাপ্পী, নুর ইসলাম ও ভাটিয়াপাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ শেখের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আল মুক্তাদিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ ভাবে তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ী বাপ্পী, নুর ইসলাম ও ভাটিয়াপাড়া সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ শেখের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমি দোষি ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দাখিল করেছি।
কাশিয়ানী উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক ট্রাকসহ ৪ টন চাউল আটক ও পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছে।