গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নির্বাচন পরবর্তী তিন স্থানে সংঘর্ষে আহত ২০

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পৌর নির্বাচন পরবর্তী পৃথক তিন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন কে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেলে প্রেরন করা হয়েছে। বুধবার আওয়ামীলীগ প্রার্থী আতিকুর রহমান মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাজ্জাদ মহসীন খিপু মিয়ার সমর্থকদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খিপু মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পরে ৬/৭জন আহত হয়। ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ পরাজিত মেয়র প্রার্থী আহাজ্জাদ মহসীন খিপু, তার ছেলে মোজাহিদ মহসীন ইমন এবং লখাই নামের একজনকে আটক করে।
বর্তমানে ওই এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি টহল দিচ্ছে।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খিপু মিয়াসহ ১৪ জনকে আসামী করে ১৪৩/ ৩৪১/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৫০৬ (২) ধারায় মিজানুর রহমান নামের একজন মামলা দায়ের করেছে। তবে এর পূর্বেই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আহাজ্জাদ মহসীন খিপু ও তার ছেলে মোজাহিদ মহসীনকে আটক করা হয়। সংঘর্ষের সময় প্রায় দুই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে একই দিন দুপুরের দিকে ৬নং টেংরা খোলা ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রিমা বেগমের সমর্থক ও অন্য এক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। আহতরা মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরের দিন বৃহস্পতিবার ৯ নং গোলাবাড়িয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেব আলীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় একই বাড়ির বাসিন্দা অপর প্রার্থী শওকত সেখ ও তার ভাই কাওছার সেখ, জানে আলমসহ আরো কয়েকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাহেব আলী মাঠে গরু বেঁধে বাড়িতে ফেরার সময় তার উপর প্রতিপরা হামলা করে। ওবায়দুর নামের একজনের লাঠির আঘাতে সাহেব আলীর হাত ভেঙ্গে যায়। বাবাকে বাঁচাতে সাহেব আলীর দুই ছেলে এগিয়ে আসলে তাদেরও বেধড়ক মারপিট করে বলে জানায় এলাকাবাসী। আহত এ ৩ জনকে মারাত্বক আহত অবস্থায় মুকসুদপুর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পরে দুজনকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের আঘাত মারাত্বক নয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছে এলাকার অভিজ্ঞ মহল।