গোপালগঞ্জের বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চায়!

এম শিমুল থান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্বামীর কাছে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চায় ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বাপাড়া গ্রামের মৃত যতিন বিশ্বাসের মেয়ে কানন বিশ্বাস(৭০), বটবাড়ী গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের(৭৭) সাথে ১৯৬৯ সালে হিন্দু সামাজিক বিধি মোতাবেক বিবাহ হয়। কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৪৭৮০, তাং- ২১/০৫/২০০৫ইং, সাময়িক সনদ নং- ১৮৭৫৩৯, প্র: ৩/০৭/২০০২/৫৫১৭, সিরিয়াল নং- ১৪০৪। উক্ত বিবাহের পুরোহীত ছিলেন, পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত বিশেশ্বর মুখার্জির ছেলে মৃত কার্তিক মুখার্জি এবং শীলের দায়িত্ব পালন করেন, মৃত হরকুমার শীলের ছেলে মৃত হরি শীল।

বিয়ের পর ৬/৭ বছরের সংসার জীবনে তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্মগ্রহন করে। ছেলেটি অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় এবং মেয়েটি স্বামীর নির্যাতনে মায়ের কোল থেকে পড়ে মারা যায়। তারপর যৌতুক লোভি স্বামী মারপিট করে স্ত্রীকে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। অদ্যবধি কানন বিশ্বাস বাবার বাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে অবস্থান করে আসছেন। শুধু মাত্র হিন্দু ধর্মীয় সামাজিক প্রয়োজনে স্ত্রীকে বাড়ী নেয়া হয়।

স্বামী কৃষ্ণ কান্ত মন্ডল ২য় বিবাহ করে ঘর সংসার বাঁধেন। কিন্তু আজও শাখা সিঁদুর গায়ে নিয়ে স্বামীর কাছে স্ত্রীর মার্যাদা পাবার অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং ভাইয়ের সংসারে খেয়ে না খেয়ে রোগে সোগে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস।

আমতলী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিদ্যাধর বিশ্বাস এবং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সদানন্দ গাংগুলি সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সামাজিক ভাবে সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কৃষ্ণকান্ত মন্ডল তা গ্রাহ্য করেননি।

এ বিষয়ে কথা বলতে এলাকায় গেলে বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মৃত্যুকালে আমি শুধু আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর অধিকার নিয়ে মরতে চাই। এ ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করছি।’

এ ব্যাপারে পার্শ্বনাথ বিশ্বাস(৭৫), সর্বরানী বিশ্বাস(৭২) গোলাপ ভাবুক(৮৫), জগদিশ ঠাকুর(৭২), মুক্তিযোদ্ধা হরকান্ত বিশ্বাস, আমতলী ইউপি ৪নং ওয়ার্ড সদস্য বিভাষ বিশ্বাস, সঞ্জয় বিশ্বাস, অখিল হালদারসহ শতাধিক এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের এ কেমন আচরণ তা আমরা ভেবে পাচ্ছি না, তার মত একজন মানুষ কি ভাবে এহেন অমানবিক কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রশ্ন?’

এ বিষয় অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণ কান্ত মন্ডলের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে কথা বলতে চাইলে বিভিন্ন তালবাহানায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে স্বামীর অধিকার পেতে বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস বাদী হয়ে গত ১৯/০৮/২০১৮ইং তারিখে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Inline
Inline