গোপালগঞ্জের গাছিদের বেড়ে গেছে ব্যস্ততা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের গাছিদের বেড়েছে ব্যস্ততা গ্রীস্মকে বিদায় জানিয়ে ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। দেশের উত্তর অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিানাঞ্চল এলাকায় শীত একটু দেরীতে অনুভূত হয়। গত কয়েক দিন শৈত্য প্রবাহে শীত যেন জেকে বসছে। সারা রাত ও দিনের অধিকাংশ সময় প্রকৃতি থাকছে কুয়াশার চাদরে ঢাকা। আর শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ব্যস্ততা বেড়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ কাটার কাজ। সারা দেশের ন্যায় তাই যেন গোপালগঞ্জ জনপদের গাছিরাও বসে নেই। প্রতিটি মুহূর্ত রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
এক সময় গোপালগঞ্জ এলাকায় লক্ষ লক্ষ খেজুর গাছ থাকলেও আজ তার সংখ্যা অনেকটা কম, তার পরেও যে একেবারে কম তা ঠিক নয়। যে গাছগুলো রয়েছে সে গুলোর পরিচর্যা করতেই যেন হিমশিম খাচ্ছেন গাছিরা। যারা গাছ কাটে তাদের বলা হয় গাছি। খেজুর গাছের অগ্রভাগের একটি নির্দিষ্ট অংশ চিরে বিশেষ ব্যবস্থায় ছোট কলসি (ভাড়) বাঁধা হয়। ফোঁটায় ফোঁটায় রসে পূর্ণ হয় সে কলসি। তাই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে গাছ তোলা কাটাসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় বর্তমানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছে অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়েই পরিচর্যা করতে হয়। কোমরে মোটা রশি বেঁধে গাছে ঝুলে গাছ তোলার কাজ করতে হয়। খেজুর গাছের চাহিদা ইট ভাটায় বেশী যার কারনে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেকাংশে কম। তাই জেলায় যেন খেজুর গাছ বিলুপ্তির সুর বাজছে। তাই আগের মতো মাঠও নেই, নেই সারি সারি এই খেজুর গাছও। তারপরও গ্রামের মাঠে আর গ্রাম্য মেঠো পথের ধারে কতক গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রাম বাংলায় অতীতে খেজুর রসের যে সুখ্যাতি ছিল তা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খেজুরের রস শীতের সকালে বসে মুড়ি মিশিয়ে গ্লাস ভরে খেতে বেশ মজা লাগে। সন্ধ্যার রস আরো মজাদার। বেশ লোভণীয় খেজুর রসের নলেন পাটালি ও গুড়। খেজুর গুড় বাঙালীর সংস্কৃতির একটা অঙ্গ। ক’দিন পরে প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা, পুলি, পায়েস তৈরীর ধূম পড়বে। ঢেঁকি ঘরে চাল কুটার ধুম পড়ে যাবে, শোনা যাবে ঢেকির ঢক ঢক শব্দ। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছে বেশ প্রিয়।
এ সব আশা নিয়ে শীত মৌসুমে গাছ কাটার কাজে গাছিদের বেশ ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। গাছির সারা বছরের রুজি রুটির নির্ভর করে এ পেশার উপর।
গাছি গোলাম মওলা জানান, শীত আসা মাত্রই আমরা খেজুর গাছ পরিচর্যার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেগেই আছি। প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা জ¦ালিয়ে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেশ আর্থিক সচ্ছলতা আসে আমাদের। খেজুর গাছ তোলার মৌসুম এলে আমাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি। নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বিক্রি করে যে অর্থ পাই তা দিয়ে চলে পুরো বছর।
ধীরে ধীরে শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। ফলে গাছিরা গাছ কাটার জন্য দা তৈরী, ঠুঙি, দড়ি ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিয়েছে। আগের মতো খেজুর গাছ আর নেই। এরপরও গাছিরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।