গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: একাত্তরে পাক-হানাদার বাহিনীর ভয়ে আতংকে থাকলেও ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। কিন্তু ক্যাবল ব্যবসায়ীর সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে নারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দেবাশুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার স্কুল শিক্ষক আশুতোষ বিশ্বাস (৬৫)। ২০ ডিসেম্বর ডিস ক্যাবল ব্যবসার অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামে একদল সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে মটর সাইকেলের বহর নিয়ে গ্রামবাসীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভাংচুর, লুটপাট, নারীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ক্যাবল ব্যবসায়ী শফিক মোল্লা ও নুর ইসলাম সিকদারের নেতৃত্বে ৪০/৪৫ টি মটর সাইকেল নিয়ে শতাধিক লোক ওই গ্রামে উল্লাস করতে করতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের সকলের কাছে লোহার রড, রামদা, সড়কি, টেঁটা ছিল। গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীতে শুধু নারীরা ছিল। পুরুষেরা জমিতে কাজ করতে গিয়েছিল। প্রায় ৫শ’ গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিসলাইন তার কেটে দেয়। আসবাবপত্র ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিট করে। এ সময় ওই গ্রামের হিন্দুপাড়ার মহিলারা ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ কথা বললে বা লুটপাটে বাঁধা দিলে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ওই বাহিনী। মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মহিলাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে। এতেও ক্ষ্যান্ত নয়, রাস্তার ইট তুলে গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে ঢিঁল ছোঁড়ে সন্ত্রাসীরা। ডিস লাইনের তার খুলতে বাঁধা দেয়ায় হোসনেয়ারা বেগম নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। গুরুত্বর আহত নারী হোসনেয়ারা বেগমকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ভাবে দুই ঘন্টা ব্যাপী ফিল্মি স্টাইলে চলে লুটপাট।
পরে খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানার রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু এর আগেই সন্ত্রাসীরা লুটপাট করে পালিয়ে যায়।
ওই গ্রামের ইকুল সিকদার অভিযোগ করে বলেন, শফিক মোল্লা ও নুর ইসলাম সিকদারের নেতৃত্বে ৪০/৪৫টি মটর সাইকেলে করে শতাধিক লোক লোহার রড, রামদা, সড়কি, টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে উল্লাস করতে করতে দেবাশুর গ্রামে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর দেবাশুর হিন্দুপাড়ার দিকে শোরগোল শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি হিন্দু পাড়ার প্রত্যেক ঘরে জোর পূর্বক ঢুকে ডিসলাইনের নোট ও এন্ট্রিফায়ার মেশিন খুলে ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। মহিলা বাঁধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা, লাঞ্ছিত এবং দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখায়।
পুইশুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ষাটোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা গাউজ সিকদার পটু সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। স্বাধীনতার পর এ ধরণের ঘটনা কখনও দেখেনি। যা একাত্তরের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।
ইউপি সদস্য মেম্বার ফিরোজ মোল্লা জানান, ক্যাবল ব্যবসায়ীর লোকজন তাকে প্রাণ নাশের হুমকিসহ নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুর ইসলাম সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আদালতের রায় পাবার পর ওই এলাকায় কাজ করতে গেলে এলাকাবাসী আমাদের ওপর হামলা করে।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলীনুর হোসেন বলেন, থানায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।