গুলিতে নিহত সাংবাদিকের শোকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নানির মত্যু

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের মৃত্যুর শোকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তার নানি রোকেয়া বেগম (৯০)। শিমুলের মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মাথায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় মারা যান তিনি। শনিবার সকাল ১০টায় নানি ও নাতির একসঙ্গে দাফন হবে।

সাংবাদিক শিমুলের ছোট ভাই আজাদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের মৃত্যুতে শাহজাদপুরসহ পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে মৃত্যু হয় সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার নানিসহ পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটায় শাহজাদপুর মালদা গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শিমুলের নানি রোকেয়া বেগম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শর্টগানের গুলিতে আহত হন দৈনিক সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে বেলা একটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই পিন্টু শাহজাদপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে পিটিয়ে দুই পা ও ডান হাত ভেঙে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়রের বাসা থেকে পিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিকেলে বিজয় মাহমুদের দুলাভাই শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিম এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। মিছিলটি মেয়রের বাসার সামনে পৌঁছলে কয়েকজন ব্যক্তি মেয়রের বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। এ সময় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ভাই পিন্টু ও তার সমর্থকদের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মেয়র তার ব্যক্তিগত শর্টগান থেকে গুলিবর্ষণ করেন।এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল মাথায় ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন।