গার্মেন্টসে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় ব্যাপক উন্নয়ন: অ্যাকর্ড

গার্মেন্টসে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড। তারা জানিয়েছে, অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬৫টি কারখানা তাদের ভবনে সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পাদন করেছে। এর সাথে ৪০০টির বেশি কারখানাগুলোয় ৯০ শতাংশের বেশি সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাকর্ডের চার বছর পূর্তি উৎসবে এর কার্যনির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস এই সন্তুষ্টির কথা জানান।

রব ওয়েস বলেন, ‘আমরা এক হাজার ৮০০ এর বেশি কারখানায় বিভিন্ন কাজে পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমরা সব মিলিয়ে এক লাখ নিরাপত্তাজনিত সমস্যা চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ কারখানা তাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করেছে। কারখানার কর্মকর্তারা যেভাবে তাদের সমস্যা সমাধান করে যাচ্ছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

রব ওয়েস আরও বলেন, ‘অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা এখনো তৎপর আছি। কারণ এখনো অনেক কারখানায় তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হয়নি।’

নিরাপত্তা বিষয়ে অ্যাকর্ড নেদারল্যান্ডস এর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্রধান ইয়্যোরিস ওল্ডেনজিল বলেন, ‘প্রায় সব পোশাক শিল্প কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার প্রটেকশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলো অনেক ব্যয়বহুল। ফলে অনেক কারখানায় এই যন্ত্রপাতি নষ্ট হলেও তারা এর সংস্কার করছে না। এই কারণে কারখানায় আগুন লাগলে সুইচ প্রেস করলেও ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছে না। এর ফলে না জানার কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।’

ইয়্যোরিস আরও বলেন, ‘যেসব কারখানা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তর্ভুক্ত আছে তাদের উযুক্ত সাপ্লায়ারদের আমরা আমাদের ফান্ডের ৫০ শতাংশ অর্থ সুবিধা দেব। এই সহায়তা সীমিত সময়ের জন্য।’

ইয়্যোরিস বলেন, ‘এছাড়াও বাংলাদেশে অ্যাকর্ড যেহেতু শেষ বছরে পদার্পণ করেছে সেজন্য আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে কারখানাগুলোতে সেইফটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করা। সেই সাথে কমিটি করার পর তাদেরকে সেইফটি পরিচালনা প্রোগ্রামে ট্রেইনিং করানো হবে। সেই কমিটিতে কেউ কোনো অভিযোগ দাখিল করলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া।’

ইয়্যোরেস তাদের প্রধান মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০০টি অ্যাকর্ডভুক্ত কারখানা ৯০ শতাংশের বেশি সংস্কার করেছে। ৬৫টি কারখানা পরিদর্শনে চিহ্নিত সব সংশোধনী কাজ সম্পন্ন করেছে। ৩০০ জনের বেশি যৌথ শ্রমিক মালিকপক্ষের সাথে গঠিত সেইফটি কমিটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সেইসব কারখানা পরিদর্শন করা হচ্ছে।