গাবতলী পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলী। দেশের সব জায়গা থেকেই এ হাটে পশু নিয়ে আসেন খামারি-বেপারিরা। সেজন্য ঘনিয়ে আসা কোরবানির ঈদের পশুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে গাবতলীর হাট।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাবতলী পশুর হাটের সংশ্লিষ্টরা। চলছে হাটের বর্ধিতাংশে প্যান্ডেলের বাঁশ লাগানোর কাজ। কোথাও কোথাও লাইট লাগানোর কাজ চললেও শামিয়ানার কাজ তখনও হয়নি।

প্রতি বছরের মত এবারও হাটের ইজারা পেয়েছেন মো. লুৎফর রহমান। মূল হাটের সঙ্গে প্রতি বছরের মত এবারও যুক্ত হচ্ছে গাবতলি বেড়িবাঁধের পশ্চিমাংশ। থাকবে সাতটি হাসিল ঘর।

জায়গা ভাড়া নেয়া বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ও গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে কাজ করছেন নিজ নিজ প্যান্ডেল তৈরির।

মন্ডল এন্টারপ্রাইজ এবার জায়গা নিয়েছে হাটের ২ নম্বর গেটে। চলছে গরু বাঁধার জন্য প্যান্ডেল তৈরির কাজ। কাজ তদারকি করতে হাটে এসেছেন এগ্রো ফার্মটির মালিক আনিকুজ্জামান রাজু।

তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্যান্ডেলের কাজ চলছে। কাজ দেখতে আসলাম। এখনো কারোই প্যান্ডেল তৈরি হয়নি।’

রাজু বলেন, ‘প্যান্ডেলের কাজ শেষ হতে আরো দু-তিন দিন সময় লাগবে। আর গরু নিয়ে আসা হবে ১৫ তারিখ থেকে।’

ব্যবসায়ীরা জানালেন, হাটের মূল বেচাকেনা হয় শেষের তিন দিন। তাই তেমন তাড়াহুড়া এখনো নেই। ইতিমধ্যে হাটের নিয়মিত বিক্রেতারা কিছু কোরবানির পশু নিয়ে এসেছেন। তবে, বিক্রি হয়নি একটিও।

বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গরু তো কিছু নিয়ে আসছি। আমরা সারা বছরই এখানে ব্যবসা করি। কিন্তু ঈদের বেচাকেনা এখনো শুরু হয় নাই। বুধবারের আগে বেচাকেনা শুরু হবে না।’

দেশের সর্ববৃহৎ কোরবানির পশু বিক্রির হাটের নিরাপত্তা রক্ষা পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি থাকবে হাট ইজারাদারের পক্ষ থেকে ভলান্টিয়ার দল।

গাবতলী হাটের মূল তদারকি ও ভলান্টিয়ারদের দায়িত্বে আছেন সজিব সরকার। সজিব বলেন, ‘হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ সকলের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ থাকবে। র‍্যাবের সদস্যরাও থাকবেন। হাটের পক্ষ থেকেও প্রচুর ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিন চার দিন পর থেকেই তারা কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকে ট্রাক আসবে। ট্রাকগুলো যেন যেখানে সেখানে না রাখা হয়, ক্রেতাদের যেন অসুবিধা না হয় সেদিকটা আমরা বেশি বিবেচনায় রাখছি। এছাড়া যানজটের একটা সমস্যা তৈরি হয়, এবার সেদিকেও আমাদের নজর থাকছে।’