গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ রাসেলে মুগ্ধ ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা

গভীর রাতে কনকনে শীতে যখন সবাই লেপ, কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছেন ঠিক সেই সময় ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের খেদমতে ব্যস্ত একজন মানুষ। আরামের ঘুম বাদ দিয়ে হাড়কাঁপানো শীতে ইজতেমা ময়দানের মুসল্লিদের খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলায়ও তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরো ইজতেমা ময়দান। দুই পর্বের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার পুরো কর্মযজ্ঞেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরব্বিদের সঙ্গে নিয়ে খিত্তায় খিত্তায় গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন মুসল্লিদের। মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি সমাধান করেছেন।

জামাতবদ্ধ হয়ে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সঙ্গে বসে খেয়েছেন দুপুর ও রাতের খাবার। তাদের মুখ থেকে শুনেছেন ধর্মীয় বয়ান। বিদেশি মুসল্লিদের কোনো কষ্ট হচ্ছে কি না সে বিষয়ে রেখেছেন কড়া নজরদারি। মোনাজাত শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুসল্লিদের মধ্যে বিতরণ করেছেন বিস্কুট, পানি, জুস ও খাবার স্যালাইন।

এই মহতি মানুষটি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সুযোগ্য সন্তান গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল। তার বাবা যখন এই আসনের এমপি ছিলেন তখন তিনিও এই কাজটি করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের এই সন্তান।একজন জনপ্রতিনিধির এমন মহতি কাজে মুগ্ধ হয়েছেন দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

গত রবিবার (২১ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমা আয়োজক কমিটি ও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সফল হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমা শেষে সোমবার বিকালের মধ্যে ময়দান ছেড়ে গেছেন মুসল্লিরা। কিন্তু যাওয়ার আগে মুসল্লিরা সাংসদ রাসেলের প্রতি মুগ্ধতা জানিয়ে গেছেন।

শেরপুর থেকে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় জামাতবদ্ধ হয়ে যোগ দেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ রহিম শেখ। মোনাজাত শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বয়স হয়ে গেছে, হয়তো আগামী ইজতেমায় অংশ নিতে পারবো না। কিন্তু দোয়া করি এমপি রাসেলের জন্য। তরুণ এই এমপি যেভাবে মুসল্লিদের খেদমত করেছেন তা অনুকরণীয়। আল্লাহ তার মঙ্গল করুক।’

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে কুমিল্লা থেকে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন শামছুল করিম নামে আরেক মুসল্লি। সাংসদ রাসেলের প্রতি মুগ্ধতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার খুব কাছ থেকে দেখেছি এখানকার সংসদ সদস্যকে। প্রতিবছরই তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে মুসল্লিদের খেদমতে ইজতেমা ময়দান ঘুরে বেড়ান। খিত্তায় খিত্তায় গিয়ে মুসল্লিদের খোঁজ নেন। অনেক সংসদ সদস্যকে দেখেছি, কিন্তু সাংসদ রাসেল একদমই ব্যতিক্রম। আদর্শবান বাবার আদর্শবান ছেলে তিনি।’

সাংসদ রাসেলের এমন মহৎ কর্ম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে দলের নেতাকর্মীদের ভেতরেও। দলীয় নেতাকর্মীরা সাংসদ রাসেলের রাত জেগে মুসল্লিদের খেদমত করার সেসব ছবি ছড়িয়ে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শুভ কামনা জানিয়েছেন সাংসদ রাসেলের এমন মহতি কাজের জন্য।

গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রাব্বি হাসান শুভ তার নিজের ফেসবুক পেইজে সাংসদ রাসেলের মুসল্লিদের খেদমত করার ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছেন, রাত পেরিয়ে প্রায় সকাল; এখনও আলহাজ্ব জাহিদ আহসান রাসেল এমপি তীব্র শীত উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের খেদমত করে যাচ্ছেন। আল্লাহ আমার ভাইকে নেক হায়াত দান করুক এবং ইসলামের খেদমত করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

যুবলীগ নেতা পলাশ মাহমুদ তার ফেসবুক পেইজে লিখেন, জ্বর ঠান্ডা কাঁশি কখনও থামাতে পারেনি পারবেও না। আপনার জিম্মাদারি, আপনার দায়িত্ব, আপনার মেহমান, আমরা আপনার আমানত। দায়িত্ব সবসময় আলহাজ্ব জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনি এগিয়ে যান, আপনার জন্য লাখ লাখ মুসল্লির দোয়া আছে সবসময়।

এ বিষয়ে গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দানে আসেন। আমি ভাগ্যবান আমার সংসদীয় এলাকায় প্রতিবছর বৃহত্তম মুসলিম জামায়েত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের খেদমত করা আমার দায়িত্ব। আমার বাবা এই আসনের সাংসদ থাকাকালে দিনরাত মুসল্লিদের খেদমত করতেন। বাবার সেই কাজ এখন আমি করছি।

রাসেল বলেন, এবারের ইজতেমায় আমি প্রতিদিন ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের খোঁজ নিয়েছি। মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খেয়াল রেখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নির্দেশনা মতো কাজ করেছি। মুসল্লিদের ওযু ও গোসলের জন্য বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত টয়লেট নির্মাণ করেছি, অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। সব মিলিয়ে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ভবিষ্যতেও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ।