গাজীপুরে ১০% ভোটও পেত না আ.লীগ: কামাল হোসেন

নিজস্ব সংবাদদাতা : গাজীপুরে ১০ শতাংশ ভোটও পাবে না জেনে আওয়ামী লীগই আদালতকে ব্যবহার করে ভোট স্থগিত করেছে বলে দাবি করেছেন ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন।

গাজীপুরে ভোট স্থগিতের পর দিন সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় এ কথা বলেন প্রবীণ এই আইনজীবী।

আগামী ১৫ মে খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের তারিখ দিয়ে ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের এক আবেদনে ৬ মে ভোট তিন মাসের জন্য স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আপিল করেছেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও আপিলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করলেও সোমবার তা জমা দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সকালেই তা জমা দেয়া হবে।

কামাল হোসেনের ধারণা, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের এক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারত।

‘গাজীপুরের নির্বাচন কীভাবে বন্ধ করে দেয়া হল? তারা আলামত পেয়েছিল সুষ্ঠ নির্বাচন হলে ১০ শতাংশ ভোটও পাবেন না। এজন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ না পেলে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ১৯৯১ সালের পর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আসার পর কামাল হোসেন যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার প্রতিটিতেই তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

অবশ্য আওয়ামী লীগের হয়েও কামাল হোসেন কখনও ভোটে জিততে পারেননি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনও মুলতবি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন এই আইনজীবী। বলেন, ‘পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই বন্ধ করে দেয়া হয় কি না সেটাই আশঙ্কা করছি। কেননা তারা জেনে গেছে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র আহ্বায়কের দীর্ঘদিন ধরে বলে আসা ঐক্য প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ঈদের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার কথাও জানান কামাল হোসেন।

‘সেখান থেকেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়া হবে। আমাদেরকে এই সময়ের মধ্যে নিজেদের সুসংগঠিত করতে হবে। জেলায় জেলায়, থানায় থানায় নির্দিষ্ট করতে হবে কাকে আমরা প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করব।’

‘এই দেশের মালিক জনগণ, দেশের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। আমাদের তো প্রতিবাদ করার কথা ছিল।’

গণফোরাম নেতা বলেন, ‘সামনে একটা নির্বাচনের কথা হচ্ছে, আপনারা আর বসে থাকবেন না। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিকে দেখেছি একরকম আর এখন অনির্বাচিত প্রতিনিধিকে দেখেছি আরেক রকম। এখন যারা আছেন তারা আসলে নিয়োগ করা চাকর।’

আলোচনায় বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখন ঘরে ঘরেই বেকার, প্রতিবছর বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এটাকে দ্রুত কমাতে হবে। দেশের পরিবর্তন করতে হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ‘এই সর্বগ্রাসী সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কাজ করে যাচ্ছে।’

“মুক্তিযুদ্ধের আগে যে সরকার ছিল আর এই ‘বিনাভোটের’ সরকারের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এটা মহাজোটের সরকার নয়, এটা মহালুটের সরকার।”

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরে এই নেতা বলেন, ‘আগের সরকারের সময় দুর্নীতি ছিল, তখন ছিলো হাওয়া ভবন। এখন হয়েছে খাওয়া ভবন। বিদেশেও নাকি এখন তার শাখা হয়েছে।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টুর সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মহাসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, আবদুল জলিল প্রমুখ।

Inline
Inline