গাজীপুরে তিনদিন ব্যাপি জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত

গাজীপুর থেকে আনোয়ার উল আলম (শাহীন) ॥ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার সমাপ্ত হল তিনদিন ব্যাপী গাজীপুর জেলা ইজতেমা। গাজীপুর জেলা ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকার কাকরাইল মারকাজ মসজিদের ইমাম ও সূরা সাথী হাফেজ মাওলানা মোঃ জুবায়ের। লক্ষাধীক মুসল্লির অংশ গ্রহণে শনিবার সকাল পৌনে এগারটা থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ২৫ মিনিট স্থায়ী আখেরি মোনাজাতে দেশের সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মার শান্তি, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা হয়।

গাজীপুর জেলা ইজতেমার স্থানীয়রা, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বাদ ফজর গাজীপুর জেলা শহরের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর মারকাজে তিনদিন ব্যাপি এই ইজতেমা শুরু হয়। গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা গাজীপুর জেলা ইজতেমায় অংশ নেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা স্থলকে উপজেলাওয়ারী পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়।

গাজীপুর ভ’রুলিয়া তাবলীগের মারকাজে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের আকন্দ স্কুল মাঠ, ঈদ গা মাঠ,হাদির টেক,ডায়াবেটিস মাঠ, মারকাজ পল্লী সহ ৭টি পয়েন্টে মুসল্লীরা অবস্থান নিয়ে তাবলীগের ছয় উসুলের বয়ান শোনেন। শনিবার বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আনিছ বয়ান করেন। আখেরি মোনাজাতের আগে কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের মুসল্লিদের উদ্দ্যেশে ঈমান আমলের উপর অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ দিক নির্দেশনামূলক বয়ান করেন। শনিবার আখেরি মোনাজাতেঅংশ নিতে গাজীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মুসল্লিরা এসে যোগ দেন।

পরে পোনে ১১টার দিকে মোনাজাত শুরু হয়।এ সময় অনেক মুসল্লি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং ইজতেমা স্থলের আশপাশের এলাকায় পিনপতন নিরবতা নেমে আসে। আমিন আমিন ধ্বনিতে মুসল্লিরা দুই হাত তুলে আল্লাহ দরবারে গুনা মাফের জন্য ফরিয়াদ করেন।

এবারের গাজীপুর জেলা ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে জামাতভক্ত লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহন করেছেন বলে ইজতেমা আয়োজক সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

আখেরি মোনাজাতে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের সাথে গাজীপুর-২ আসনের এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখসহ জেলার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ শরিক হন।

এবছরই প্রথম গাজীপুর জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী ইজতেমা মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মূলত এই গাজীপুর জেলা ইজতেমার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক বছর পর পর এ আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

ছবি তুলেছেন: মিন্টু শেখ।

Inline
Inline