গাইবান্ধায় সন্ত্রাসী তান্ডব দোকান ভাংচুর; গুরুতর আহত ১

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা সদরের পুরাতন জেলখানা সংলগ্ন সান্ত কনফেকশনারী দোকানের পিছনের জায়গা দখল নিতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সস্ত্রাসী পার্শ্ববর্তী দোকান মালিক মাহাবুবার রহমান তার দাঙ্গাবাজ ভাই-ভাতিজা মিলে এই হামলা চালায়। হামলায় দোকান মালিক জিহাদ হোসেন গুরুত্বর আহত হয়।

গত ৫ফেব্রুয়ারী বিকেলে পুরাতন জেলখানা সংলগ্ন (বর্তমানে বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল) এঘটনা ঘটে। আহত জিহাদ হোসেনকে পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থান্তর করেন।

জিহাদের বড় ভাই জাভেদ হোসেন জানান, ১৯৮১ সালে আমার বাবা মৃত নিজাম উদ্দিন তৎকালিন (বিল্ডিং ডিভিশন রংপুর) বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ৬ ফিট বাই ১০ ফিট জায়গা দোকানের জন্য লিজ নেয় যা পুরাতন জেল বিল্ডিং ও মুনসেফ কোর্টের মাঝে পানি নিস্কাশন ড্রেনের উপর অবস্থিত।

মুনসেফ কোর্ট (বর্তমানে পুরাতন জজ কোট) এলাকায় অবস্থিত সান্ত কনফেকশনারীর পাশে মাহাবুবার রহমানের একটি মারিয়া বেকারী নামে কনফেকশনারী আছে যা জজ কোর্ট থেকে লিজ নেয়া আছে বলে সে দাবি করে। দীর্ঘদিন থেকেই মাহাবুবার রহমান আমাদের লিজকৃত গণপূর্ত বিভাগের দোকানের জায়গাটির পিছনের অংশ দখলের পায়তারা করে আসছে।

বর্তমানে গাইবান্ধা শহরের প্রধান সড়কটি ফোর লেন করার চুরান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমার দোকানের পিছনের ফাকাঁ জায়গাটি মাহাবুবার রহমান দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সে যখন তখন আমাদের ভারাটিয়াকে এবং আমার ভাইকে হুমকি দিতে থাকে। এবং বলতে থাকে এজায়গা জজ সাহেব আমাকে দিয়েছে।

একপর্য্যায় আমি মাননীয় জজ মহাদয়ের সাথে দেখা করতে গেলে নায়েব নাজীর সুমন আমাকে দেখা করতে না দিয়ে বলে জজ সাহেব বলেছে আপনারা কেউ ও জায়গায় যাবেন না এটাই জজ সাহেবের হুকুম। কিন্তু সে হুকুম শুধু বাস্তবে আমার জন্যই ছিলো। কারণ, পিছনের জায়গায় মাহাবুবার রহমান একটা দরজা করে চালি দিয়ে সেকানে সে দখলের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। প্রতিদিন সে তার দাঙ্গাবাজ ভাই-ভাতিজা ও সন্ত্রাসী মিলে এখানে মহড়া দিতে থাকে। আমি নায়েব নাজীরকে এসব ঘটনা বললে তিনি ৫ফেব্রুয়ারী আমাকে তার অফিসে সকালে দেখা করতে বলে। আমি যথারিত তার অফিসে যাই তখন সে বলে আমি মাহাবুবার রহমানকেও ডেকেছি উনি আসলে আপনাদের দুজনের সাথে কথা বলবো আপনি অপেক্ষা করেন।

কিছুক্ষন পরে আমি আমার ভারাটিয়ার মাধ্যমে জানতে পেলাম যে, মাহাবুবার রহমান আমার পিছনের অংশ প্রাচির দিয়ে দখল নিচ্ছে। এমন খবরে আমি নায়েব নাজীরকে ফোনে চেষ্টা করে পাইনি কারণ সে বারবার আমার ফোনটা কেটে দিচ্ছিলো। তখন আমি কোন উপাই না পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই এবং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।

তারপর সেখানে পুলিশ গিয়ে কাজ থামানের কথাবলে মাহাবুবার রহমানকে লিজের কাগজ নিয়ে থানায় যেতে বলে। কিন্তু সে তা অমান্য করে তা দখল নেয়ার কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।

এমন সময় আমার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন সেখানে গেলে তার দাঙ্গাবাজ ভাই-ভাতিজা ও সন্ত্রাসী মিলে আক্রমন করে তাকে গুরুত্বর আহত করে। সে বর্তমানে রংপুর মেডিকেলের নতুন বিল্ডিং-এর ৩১ নং ওয়াডে চিকিৎসাধীন আছে।
এব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানায় জিহাদ হোসেনরে স্ত্রী বাদি হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

দোকান মালিক মাহবুবার রহমান ও নায়েব নাজীর সুমনের মুঠো ফোনে এব্যাপারে বারবার ফোন করলেও কোন সারা মেলেণি।

Inline
Inline