গাইবান্ধায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডল : গাইবান্ধায় সাম্প্রতিক বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত সহায় সম্বলহীন পরিবারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাইবান্ধা ইউনিট ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে আসছে। জেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় সপ্তাহব্যাপী গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের সহায়তায় ত্রাণ তৎপরতা শেষ হয়েছে।
সোমবার গাইবান্ধা পাবলিক চত্বরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাইবান্ধা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা এইসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাইবান্ধা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, কার্যনির্বাহী সদস্য গাইবান্ধা পৌরসভা মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, সুলতানা ইসলাম ডলি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (এনডিআরটি) পরিচালক আব্দুল করিম, সুইস রেড ক্রসের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডিআরএফ গোলাম মোস্তফা, বিপ্লব কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
যেসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন, গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত, তালুককানুপুর ও ফুলবাড়ি, সাঘাটার জুমারবাড়ি ও ঘুড়িদহ এবং গাইবান্ধার সদরের বলমঝাড়, খোলাহাটি ইউনিয়ন ও গাইবান্ধা পৌর এলাকা।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের সহায়তায় বিতরণকৃত ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি সুজি ও ১ কেজি লবণ। ২ হাজার ৮শ’ ৭টি পরিবারের মধ্যে ওই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
এ পর্যন্ত সুইস রেড ক্রসের আর্থিক সহায়তায় ফুলছড়ি ও সাঘাটা সদর উপজেলার ২ হাজার ৭শ’ ২২টি পরিবারের মধ্যে একই পরিমাণ চাল, ডাল, তেল, চিনি, সুজি, লবণ ও ১০টি স্যালাইনের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। তদুপরি ৫শ’টি টিউবয়েল জীবানুমুক্ত করণ, ৮ প্রকারের সবজি বীজ বিতরণ এবং ১ হাজার ১শ’ পরিবারের মধ্যে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির সহায়তায় বন্যার্ত ১ হাজার ২শ’ ৫০ পরিবারের মধ্যে ৬ হাজার ২শ’ পানির বোতল এবং ১ হাজার ৫০টি পরিবারের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ জ্যারিকেন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া সাঘাটা, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি উপজেলার ১ হাজার ২শ’ বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে চিড়া, গুড় এবং শুকনা খাবারও বিতরণ করা হয়। এ জেলার বন্যা প্রবণ এলাকার বন্যা দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন, জীবন জীবিকার সহায়তা, বন্যা মোকাবেলা, গো সম্পদ রক্ষায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র এবং জরুরী ভিত্তিতে কিলা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।