গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডল : গাইবান্ধায় কোন কোন নদীর পানি সামান্য কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তি রয়েছে। এদিকে করতোয়া নদীর পানি বৃহস্পতিবার গোবিন্দগঞ্জের তরফকামাল, তরফমনু, চষকপাড়া, চক গোবিন্দ ও কাইয়াগঞ্জ এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ-ফুলবাড়ি-দিনাজপুর উপমহাসড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোবিন্দগঞ্জের সাথে দিনাজপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও সদর উপজেলার ২ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে মোট ৯০টি আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলাতেই ৬৩টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ গাদাগাদি হয়ে রাত কাটাচ্ছে। সীমিত ত্রাণ সামগ্রী তাদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও গরু-ছাগলের জন্য কোন ত্রাণ নেই। ফলে সেগুলোর অবস্থা করুণ। গো-খাদ্যের অভাবে এসব প্রাণী চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, এবারের বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ৬শ’ ২৬ মে.টন চাল ও ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বন্যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৬৪ মে. টন চাল ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া আরও ৫শ’ মে. টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৯০ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি ৭ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৭৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে করতোয়া নদীর পানি এসময় ৩ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।